সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ১৯৫৭ সালে রামপুরহাট পুরসভার কয়েকজন সাফাইকর্মী মিলে ব্যাঙ্ক রোডের ধারে শাড়ি দিয়ে ছোট্ট প্যান্ডেল করে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন। সেই সময় রামপুরহাটে গুটিকয়েক দুর্গাপুজো হতো। শোনা যায়, অন্য পুজোয় গুরুত্ব না পেয়েই সাফাইকর্মীরা এই পুজো আয়োজন করেন। টানা তিনবছর পুজো করার পর টাকার অভাবে তা বন্ধ হতে বসেছিল। সেই সময় পাড়ার কয়েকজন উদ্যোগী হয়ে পুজোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। কলের পাইপ, শাড়ি, ধুতি দিয়ে নিজেরাই মণ্ডপ গড়া শুরু করেন। পুজো পরিচালনার জন্য গড়ে তোলা হয় ‘তরুণের আহ্বান’ ক্লাব। সেই পুজোই এখন মহিরুহ হয়ে উঠেছে।
এখন এই দুর্গোৎসব শহরের বিগ বাজেটের পুজোর মধ্যে অন্যতম। কমিটির কোনও পদে না থাকলেও এই পুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বাড়ির সামনেই এই পুজো। উৎসবের ক’টা দিন মণ্ডপে থাকার পাশাপাশি সপ্তমীর ঘট ভরা থেকে শুরু করে প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
৬৯তম বর্ষে পুজোর থিম ‘অগ্নি আঁখরে’। দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের আদলে মণ্ডপের মূল গেট করা হয়েছে। পুরো মণ্ডপজুড়ে স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মহাত্মা গান্ধী, শহিদ ভগত সিং ও ক্ষুদিরামের প্রতিকৃতি রয়েছে। সেইসঙ্গে অপারেশন সিন্দুরের সোফিয়া কুরেশি, ব্যোমিকা সিং ও বীরভূমের শহিদ রাজেশ ওরাংয়ের প্রতিকৃতি, লালকেল্লার মডেল ও ভারতমাতার মূর্তি থাকছে। জাতীয় পতাকার তিন রঙে পুরো মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। সাবেকি প্রতিমাতেও তেরঙার ছোঁয়া থাকছে।
সর্বজনীন পুজো হলেও এখানে অষ্টমীতে কাঁসর, ঘণ্টা বাজানো হয় না। আগে বন্দুক থেকে গুলি ছুড়ে পুজো শুরু হতো। এখন এই রীতির বদল ঘটেছে।
ক্লাবের সদস্য কৃষ্ণ চৌধুরী বলেন, ভারতভূমি রক্ষার্থে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও এখন সেনার অবদানকে আমরা এই থিমের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। মণ্ডপ, আলোকসজ্জা ও প্রতিমা দর্শনার্থীদের দেশপ্রেম জাগ্রত করবে। পুজোর ক’দিন মণ্ডপে দেশাত্মবোধক গান বাজানো হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় আশিসবাবু মণ্ডপ উদ্বোধন করেন। সেখানে শহিদ রাজেশ ওরাংয়ের বাবা-মা ও এলাকার তিন সেনাকর্মীকে সংবর্ধিত করা হয়। উদ্বোধনের পরই দর্শনার্থীরা মণ্ডপে ভিড় করেন।