সংবাদদাতা, লালবাগ: নবাবের শহর মুর্শিদাবাদের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে সন্ধান মেলে ইতিহাসের। ঐতিহ্য মেনে আজও শারদোৎসবে সম্প্রীতির ধারা বহন করে চলেছে। ইতিহাসের হাত ধরেই বুধাসপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি কখনও মায়ানমারের বুদ্ধমন্দির কখনও বৈদিক বিজ্ঞান আবার কোনও বছর প্রাচীন সভ্যতা হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোকে হাজির করেছে মণ্ডপে। এবার ৩৩ বছরে পুজোর থিম রাজস্থানের জয়পুরের লক্ষ্মী-নারায়ণ বিড়লা মন্দির। গোলাপি শহরের মন্দিরের আদলে মণ্ডপ হুবহু তুলে আনা হয়েছে নবাবের শহরে।
এই মণ্ডপ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ, কঠের বাটাম, কাপড়, ফাইবার প্রভৃতি। উল্টো রথের দিন আনুষ্ঠানিকভাবে মণ্ডপ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। মাঝে নিম্নচাপের ধারাবাহিক বৃষ্টিতে পুজো উদ্যোক্তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। মোট ৫০জন শিল্পী দিনরাত এক করে মণ্ডপ নির্মাণ করছেন। প্রায় ৮৫ ফুট উচ্চতার ওই মণ্ডপ এবারও দর্শকদের নজর কাড়বে বলে দাবি করেছেন পুজো কমিটির সম্পাদক নয়না দাস মণ্ডল। মায়ের প্রতিমা গড়া হয়েছে সাবেকিয়ানায় একচালা ডাকের সাজে। মণ্ডপসজ্জার পাশাপাশি আলোকসজ্জাতেও চমক থাকছে। থাকছে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড। মণ্ডপের দু’পাশে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা আলো দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পুজোর উদ্বোধন হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হবে। মণ্ডপ চত্বরে বাউল গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সৌমেন মণ্ডল বলেন, প্রতি বছর জেলাবাসীর জন্য শিল্প ভাবনায় চমক থাকে। এবারেও রয়েছে। পুজোর দিনগুলি আমাদের মণ্ডপে মানুষের ঢল নামে। ভিড় সামলাতে পুলিসকর্মী ও ক্লাব সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়।