ঘুর্ণি তরুণ সংঘে ৭৫তম বর্ষের থিম তিরুচিরাপল্লির স্বামী রঙ্গনাথ মন্দির
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অমিয়কুমার বিশ্বাস, কৃষ্ণনগর: বরাবর দুর্গাপুজোর মণ্ডপ তৈরিতে নতুনত্বের চমক দিয়ে আসছে কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি তরুণ সংঘ। এ বছর পুজোর ৭৫তম বর্ষ, অর্থাৎ প্লাটিনাম জুবিলি বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে অভিনব ভাবনায় মণ্ডপ সাজিয়ে চমক দিতে চলেছে এই পুজো কমিটি। তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লির বিখ্যাত স্বামী রঙ্গনাথ মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে তাদের এবারের মণ্ডপ।  সম্পূর্ণ মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে সিন্থেটিক বোর্ড দিয়ে। মণ্ডপ তৈরিতে থাকছে না কোনো কাপড়ের ব্যবহার।

Advertisement

ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর তো বটেই, নদীয়া জেলাতেও এই ধরনের সিন্থেটিক বোর্ড ব্যবহার করে মণ্ডপের নজির খুব একটা নেই। সোনালি রংয়ের সিন্থেটিক বোর্ডে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দক্ষিণ ভারতের মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী। মণ্ডপের বিভিন্ন অংশে থাকছে নানা দেবদেবীর মূর্তি। পাশাপাশি নজর কাড়বে দুটি সিংহের মূর্তিও। নিখুঁত কারুকাজ ও মন্দিরের স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন শিল্পীরা। মণ্ডপের বাইরের সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভিতরেও থাকছে আলাদা আবহ। শান্ত, স্নিগ্ধ পরিবেশের সঙ্গে মানানসই আলোকসজ্জা এবং সুরেলা সংগীতের মেলবন্ধনে তৈরি হবে আধ্যাত্মিক পরিবেশ। পুজোর দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের সামনে স্বামী রঙ্গনাথ মন্দিরের স্থাপত্যের এক অভিনব রূপ তুলে ধরাই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য।
ক্লাবের সদস্যদের কথায়, ১৯৫২ সালে ঘূর্ণি তরুণ সংঘের দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছিল। প্রতি বছরই তারা সুন্দর থিম উপহার দিয়ে চলেছে। পুজোর পাশাপাশি সারা বছর নানা সামাজিক কর্মকাণ্ড করেন ক্লাব সদস্যরা। প্লাটিনাম জুবিলি বর্ষে এই থিম বাছার পর ডেকোরেটরদের পক্ষ থেকে সিন্থেটিক বোর্ড ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই উপকরণে কাজ করলে মণ্ডপ আরও নিখুঁত করা সম্ভব হবে মণ্টডপ শিল্পীরা জানান। ইতিমধ্যেই মণ্ডপ তৈরির কাজ দেখতে অনেকে ভিড় করছেন। 
ক্লাবের কোষাধক্ষ্য মলয় কুমার দাস বলেন, মানুষ জানে তরুণ সংঘ গেলে আমরা নতুনত্ব কিছু দেখতে পাব। এবার্রী আমরা নতুনত্ব থিম নিয়ে হাজির হয়েছি। আপনারা আসুন আমাদের থিম ও প্রতিমা দর্শন করুন। এ বছর আমাদের বাজেট প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। চতুর্থী থেকে নবমী পর্যন্ত সাংস্কৃতিক নানা অনুষ্ঠান থাকছে। আমাদের পুজোর উদ্বোধন হবে চতুর্থীতে। নবমীতে থাকছে অন্নমহোৎসব। প্রায় ৪০০০ মানুষের জন্য অন্নমহোৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।
প্লাটিনাম জুবিলির বছরে অভিনব মণ্ডপের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়েও পুজোর আনন্দকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।