সংবাদদাতা, লালবাগ: মুর্শিদাবাদ জেলার বিগ বাজেটের পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম ভাগীরথীর পশ্চিমপাড়ে আজিমগঞ্জ ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ক্লাবের পুজো। ভাগীরথী পাড়ের এই ক্লাবটির পুজোর শিল্পভাবনায় চমক থাকে। এবার আজিমগঞ্জ ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ক্লাবের থিম দীঘার জগন্নাথদেবের মন্দির। জগন্নাথদেবের মন্দিরের হুবহু আদলে প্রায় দুই বিঘা জমির উপর ২০০ ফুট চওড়া, ১৩০ ফুট লম্বা এবং ১২৫ ফুট উচ্চতার বিশাল মণ্ডপটি গড়ে উঠেছে। শিল্পীদের নিপুণ দক্ষতায় গড়ে ওঠা মণ্ডপটি দেখে বোঝার উপায় নেই আসল না নকল। রীতি মেনে রথের দিন কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়।
প্রায় তিনমাস ধরে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন শিল্পী দিনরাত এক করে পুজোর মণ্ডপ গড়ে তুলেছেন। ফাইবার, শোলা, রং প্রভৃতি উপকরণ দিয়ে মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে শিল্পকলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। থিমের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মণ্ডপে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাদেবীকে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিষ্ণু, ব্রহ্মা, গণেশ সহ বিভিন্ন দেবদেবীও রয়েছে। মূল মন্দিরে থাকছেন একচালার সাবেকি দুর্গা। আজ, বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি পুজোর উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওইদিন থেকে দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপ খুলে দেওয়া হবে।
ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্বোধনের দিন মায়াপুরের ইসকন থেকে ছ’জন পুরোহিত আসছেন। পুজোর দিনগুলি মণ্ডপে থেকে জগন্নাথদেবের পুজা ও আরতি করবেন। নবমীর সকালে মায়াপুর থেকে বিদেশি ভক্তরা আসছেন। তাঁরা দিনভর কীর্তন ও হরিনাম করবেন। জিয়াগঞ্জ ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ক্লাবের পুজো চলতি বছরে ৮৩ বছরে পা দিয়েছে। তবে গত তিন বছর ধরে বিগ বাজেটের থিমের পুজো হচ্ছে। ২০২৩ সালে প্রথম বছরে কাশীর বিশ্বনাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করে জেলাবাসীর নজর কেড়েছিল আজিমগঞ্জের ক্লাবটি। গত বছরের থিম ছিল বৃন্দাবনের প্রেম মন্দির। দুই বছর পুজোর দিনগুলিতে ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ক্লাবের মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছিল।
উদ্যোক্তাদের দাবি, এবছর গত দুই বছরের তুলনায় আরও বেশি মানুষ আজিমগঞ্জে আসবেন। পুজোর প্রধান উপদেষ্টা প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, থিমের পুজোর প্রথম বছর থেকেই মানুষ আমাদের ভালোবাসা দিচ্ছেন। মুর্শিদাবাদ জেলার পাশাপাশি নদীয়া, বীরভূম, মালদা থেকেও মানুষ ছুটে আসেন আজিমগঞ্জে। গত বছর পুজোর দিনগুলিতে মোট চার লক্ষের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছিল। আশা করছি, এবছর আরও মানুষ আসবেন। দ্বাদশী পর্যন্ত দর্শনার্থীরা মন্ডপ ও প্রতিমা দেখার সুযোগ পাবেন।