নয়াদিল্লি: কোনো শিশু যদি বলে তার উপর যৌন নির্যাতন হয়েছে, তাহলে সেই অভিযোগ সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য বলেই ধরতে হবে। ওই শিশু যাঁকে ঘটনার কথা বলেছে, সেই ব্যক্তি কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে তা জানাতে আইনত বাধ্য। ঘটনার কথা জানা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি যদি বিষয়টি এড়িয়ে যান, তাহলে তা ‘অপরাধ’ বলেই গণ্য হবে। পকসো আইনে এক মামলায় প্রেক্ষিতে একথা বলল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সূত্রেই অরুণাচল প্রদেশের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ফের ফৌজদারি প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত। নিম্ন আদালত বা গুয়াহাটি হাইকোর্ট প্রধান শিক্ষিকাকে রেহাই দিলেও সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে। কারণ, আট বছরের এক ছাত্রী প্রধান শিক্ষিকাকে জানিয়েছিল উঁচু ক্লাসের এক পড়ুয়া তার উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। সেকথা জানা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ বা পুলিশকে না জানিয়ে ‘ব্যক্তিগত যাচাই’য়ের পর তিনি অভিযোগ অসত্য বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
বিচারপতি মনোজ মিশ্র এবং কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ বলেছে, পকসো আইনের ধারা ১৯ (১)-এর অধীনে ‘এই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অবগত’— অভিব্যক্তিটির মধ্যেই সরাসরি নির্যাতনের শিকার হওয়া শিশুর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচনা করতে হবে। আদালত সূত্রে খবর, শিশুটি তার দিদি, সহপাঠী এবং প্রধান শিক্ষিকাকে এই যৌন নিপীড়নের কথা জানায়। পকসো আইন অনুযায়ী পুলিশকে জানানোর পরিবর্তে, প্রধান শিক্ষিকা ‘যাচাই’য়ের নামে শিশুটির গোপনাঙ্গ পরীক্ষা করেন। এরপর তিনি অভিযুক্ত ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ‘কিছুই ঘটেনি’ বলে রায় দিয়ে দেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে পর্যন্ত জানাননি। বরং ঘটনার কথা কাউকে জানানো যাবে না বলে ছাত্রছাত্রীদের সতর্ক করেন প্রধান শিক্ষিকা।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, অভিযোগ জানানোর আগে অবগত ব্যক্তিদের ‘নিজস্ব তদন্ত’ চালানোর অনুমতি দিলে তা পকসো আইনের মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করে দেবে। কারণ, ওই আইনের লক্ষ্য হল প্রমাণ সংরক্ষণ, তদন্ত প্রক্রিয়া মসৃণ করা এবং শিশুদের আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য দ্রুত অভিযোগ জানানো।
সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, যৌন নির্যাতনের ‘দৃশ্যমান চিহ্নে’র অনুপস্থিতির অর্থ এই নয় যে, কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি বলে ধরে নিতে হবে। সেই সূত্রেই হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, শিশুরা তাদের বয়সের কারণে প্রায়শই কোনও ঘটনার গুরুত্ব সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। এক্ষেত্রে, অস্পষ্ট চিত্রটি স্পষ্ট করার জন্য তাদের সংক্ষিপ্তভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে। কিন্তু তার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সত্য উদ্ঘাটন করা। শিশুর অভিযোগ দমন বা খারিজ করা তার লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।