রাজ্য সরকারের বিজয়ার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন সভাজুড়ে চোরবাগানকাণ্ডের দগদগে স্মৃতি, আসন্ন কালী-জগদ্ধাত্রী পুজো ত্রুটিমুক্ত রাখতে সাধারণকে আর্জি মুখ্যমন্ত্রীর
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চোরবাগানের ঘটনার পর কেটে গিয়েছে ১০ দিন। কিন্তু সোমবার মিলন মেলায় রাজ্য সরকারের বিজয়ার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন সভা ঘিরে থাকল প্রতিমা দর্শনে গিয়ে ১৯ জনের প্রাণহানির দগদগে স্মৃতি। দেবী দুর্গা সম্মান প্রদান থেকে শুরু করে নানা জেলার লোকশিল্প প্রদর্শনীর অনুষ্ঠানে কাটছাঁট করে বিদেহীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যান্য বিশিষ্টদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পদপিষ্টের ঘটনায় আহত হওয়া ২৫ ব্যক্তির পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় পাঁচ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেক। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে রাখলেন, ‘এই শোক থেকে শিক্ষা ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ আগামীদিনে পুজো কমিটিগুলি নেবে। সরকারও যত্নবান থাকবে।’ তবে শুধু আগামী বছরের দুর্গাপুজো নয়। সামনের দেওয়ালি, কালীপুজো, ছটপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজোর মতো উৎসবগুলিকে ত্রুটি মুক্ত রাখতে তাঁর সরকার শীঘ্রই পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এর জন্য সাধারণ মানুষকেও সহযোগিতার আরজি জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

চোরবাগানের মতো ঘটনা এড়াতে ২০২৭ এর দুর্গা পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে পুজো উদ্যোক্তাদের কী করণীয়? চোরবাগানের ঘটনাকে ফের একবার ‘হিউম্যান এরর’ বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব আনব না, ছোট্ট ঘটনা বলব না। আমি বলব, যাদেরই ভুলে এই ঘটনা ঘটে থাকুক না কেন, তার মূল্যায়ন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ম্যাডাম (অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী) মহোদয়া করবেন। ওই ঘটনার জন্য দায়ী কাউকে আড়াল করবে না সরকার। আর আগামী দিনে উৎসবগুলিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেক্ষেত্রেও কমিশন যে সুপারিশ করবে, প্রয়োজন হলে তিন মাস পরে আরেকবার পুজো কমিটিগুলোকে ডেকে সেই সুপারিশগুলি প্রকাশ্যে ব্রোশিওর আকারে তুলে দেব। যাতে ২০২৭’এ এই ধরনের কোন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’ এদিনের অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রীতম সরকারকেও। 
যদিও চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনা বাদ দিলে রাজ্যজুড়ে বাকি ৬৬ হাজার পুজো অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর রেশ ধরেই পূর্বতন সরকারের আমলে আলিপুরদুয়ার, মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার মহেশপুর, কলকাতায় গার্ডেনরিচ এলাকায় পুজোর সময় মাইক বাজানো নিয়ন্ত্রণের মতো ঘটনা উল্লেখ করার পাশাপাশি নিরঞ্জনী শোভাযাত্রার রুট নির্ধারণের প্রসঙ্গও ছুঁয়ে যান শুভেন্দু। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এবারে  তেমন একটা ঘটনাও ঘটেনি। ধর্ম যার যার উৎসব সবার—এটা তো ঘটনা। কিন্তু ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষা করার দায়িত্বও তার তার। এটা এবারে পশ্চিমবঙ্গের সকলে বুঝেছেন। এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ, পরিবর্তনের পশ্চিমবঙ্গ।’
চোরবাগানের কয়েকজন আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রাইভেট হসপিটালে আমরা নিয়ে গিয়ে সেবা দিয়েছি। এখানে ব্যর্থতার কিছু নেই। সরকারি হাসপাতালের যে পরিষেবা, তার তুলনায় প্রাইভেট ও দামী হসপিটালের পরিষেবা অনেক ভালো। আমি ইগো দেখিয়ে, অহংকার দেখিয়ে—‘না, হাম কিসিসে কম নেহি’—আটকে রাখিনি সরকারি হসপিটালে। মা দুর্গার কৃপায় তারা সকলেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন।’