প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বাড়ি তৈরির টাকাই শুধু নয়, মজুরি বাবদ খরচও মিলবে এবার। সৌজন্যে রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার! কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা দেওয়া বন্ধ করায় সম্পূর্ণ রাজ্যের খরচে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প চালু করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তার প্রথম পর্যায়ে ১২ লক্ষ উপভোক্তাকে দু’টি কিস্তিতে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪৬৭ উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে দেওয়ার পর সরকার বদলে যায়। নয়া সরকার এসে ইতিমধ্যে ওই উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে মিটিয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে ‘বাংলার বাড়ি’র বদলে তারা এই প্রকল্পের নামকরণ করেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’। এই প্রকল্পেই এবার প্রায় ১৯ লক্ষ উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির মজুরি বাবদ এককালীন ২৭ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। দ্বিতীয় পর্যায়ের সমস্ত উপভোক্তা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য প্রমাণিত হলে মজুরি বাবদ মোট ৫,০৩৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা খরচ হবে।
আগাগোড়াই কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। এই প্রকল্পের সুবিধা প্রাপকদের ৯০ দিনের মজুরি বাবদ অর্থ দেওয়া হয়। আগে ‘মনরেগা’ বা ‘১০০ দিনের কাজ’ প্রকল্প থেকে এই মজুরি দেওয়া হত। গত ১ জুলাই থেকে ‘ভিবি জি রামজি’ বা ‘১২৫ দিনের কাজ’ প্রকল্প চালু হয়েছে দেশজুড়ে। এক্ষেত্রে প্রতিদিন ৩০০ টাকা হিসাবে ৯০ দিনের মজুরি দেওয়া হবে আবাসের উপভোক্তাদের। দুর্গম এলাকার জন্য দেওয়া হয় ৯৫ দিনের মজুরি। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ রাজ্যের খরচে চলা ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের জন্যও একই নিয়ম চালু করার আরজি জানিয়েছে কেন্দ্রের কাছে। তবে প্রথম পর্যায়ের ১২ লক্ষ উপভোক্তা দু’টি কিস্তিতে সম্পূর্ণ টাকা পেয়ে যাওয়ায় তাঁদের এই আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব নয় বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। ফলে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রায় ১৯ লক্ষ উপভোক্তা, যাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার, তাঁরাই একমাত্র এই সুবিধা পাবেন। সদ্য দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ায় তাঁদের সিংহভাগই এখনও বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করে উঠতে পারেননি। ফলে একে ‘অন গোয়িং স্কিম’ হিসাবে বিবেচনার যথেষ্ট জায়গা রয়েছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ আমলারা। তবে এই সুবিধা প্রাপকদের জবকার্ড বা গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। মজুরি কারা পাবেন, সেই তালিকা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কার্ড যাচাই করে নেবে রাজ্য। কীভাবে চলবে সেই যাচাই প্রক্রিয়া, কেন্দ্রকে সম্প্রতি রাজ্যের দেওয়া চিঠিতে তাও বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফে পাঠানো হয়েছে ওই চিঠি। এখন শুধু কেন্দ্রের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা। তা মিললেই দ্রুত যাচাই প্রক্রিয়া সেরে যোগ্যদের মজুরি বাবদ এই টাকা দেওয়ার বন্দোবস্ত করবে রাজ্য। সেক্ষেত্রে এক-একজন বাড়ি তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা তো পাবেনই। সেই সঙ্গে পাবেন আরও ২৭ হাজার টাকা।