রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: কেন্দ্রের অটল পেনশন যোজনায় নাম লিখিয়েছিলেন জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির বাসিন্দা রাজা সাহা। কিন্তু ২০২৪ সালের ২ জুন তিনি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, এই প্রকল্প থেকে তিনি নাম তুলে নিতে চান। একইসঙ্গে তিনি এও জানিয়েছিলেন যে, এই প্রকল্পে তিনি যে টাকা সেদিন পর্যন্ত জমা দিয়েছেন, তা সুদ সহ তাঁকে ফেরত দেওয়া হোক। কিন্তু ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কিছুতেই তাঁর প্রাপ্য টাকা ফেরত দিচ্ছিল না। নানা বাহানায় ঘোরাচ্ছিল তাঁকে। শেষ পর্যন্ত রাজ্যের উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের দৌত্যে সামাধান হল সমস্যার। ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় মিলল সমাধান সূত্র। প্রাপ্য টাকা ফেরত পেয়ে খুশি রাজা সাহা।
২০১৫ সালে অটল পেনশন যোজনা শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই প্রকল্পে মাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়। ৬০ বছর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাসিক পেনশন পাওয়ার যোগ্য হন। এই পেনশন যোজনায় ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি যে কোনও নাগরিক টাকা জমা করতে পারেন। তাতে এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার কথা উপভোক্তার। সেই ডাকে সাড়া দিয়েই এই পেনশন যোজনায় নাম লিখিয়েছিলেন রাজা সাহা।
ওই ব্যক্তি অটল পেনশন যোজনা থেকে নাম প্রত্যাহার করার আর্জি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কর্তৃপক্ষকে। তিনি তারপর একাধিকবার ব্যাঙ্কে গেলেও তাঁর জমা করা টাকা ফেরত দিচ্ছিল না কর্তৃপক্ষ। এই অভিযোগকে সামনে রেখে তিনি দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর তাঁর অভিযোগ হাতে পান জলপাইগুড়ি অফিসের আধিকারিকরা। এরপর সেই অভিযোগ আসে উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে। তার ভিত্তিতে শুরু হয় আলাপ-আলোচনা। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে ডেকে পাঠান উপভোক্তা দপ্তরের আধিকারিকরা। তিন দফায় বৈঠক হয়। অটল পেনশন যোজনার যাবতীয় কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হয়। অভিযোগকারী, উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর ও ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা এক টেবিলে বসে এ নিয়ে আলোচনা করেন। শেষমেশ টাকা ফেরত দিতে সম্মত হয় ব্যাঙ্ক। গত ১৭ মার্চ ৬৬ হাজার ৬০৯ টাকা রাজা সাহাকে ফেরত দেয় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। টাকা ফেরত পেয়ে খুশি অভিযোগকারী।
রাজ্যের উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র বলেন, আমাদের দপ্তরের কাজই হল মানুষের সমস্যার সমাধান করা। সেখানে কোনও ব্যক্তি অভিযোগ জানালে তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। সমস্যার সমাধান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।