Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিজের তাগিদেই ফি বছর মণ্ডপের যাবতীয় জঞ্জাল সাফ করেন জামাই

অভাব নিত্যসঙ্গী। ফি বছর পুজো আসে, পুজো যায় কিন্তু গায়ে নতুন জামা ওঠে না

নিজের তাগিদেই ফি বছর মণ্ডপের যাবতীয় জঞ্জাল সাফ করেন জামাই
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: অভাব নিত্যসঙ্গী। ফি বছর পুজো আসে, পুজো যায় কিন্তু গায়ে নতুন জামা ওঠে না। স্ত্রীকেও পুজোয় নতুন কাপড় কিনে দিতে পারেন না। যন্ত্রণা আরও আছে পঁয়তাল্লিশ বছরের মানুষটির। কিন্তু কষ্ট তাঁকে কাহিল ও বিচলিত করতে পারেনি। এ শহরের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ঠাকুর দেখতে পারেন তার জন্য এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে মণ্ডপ চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখেন ফি বছর। ঘুরে ঘুরে প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগ, পড়ে থাকা কাগজের কাপ, থালা ইত্যাদি আবর্জনা তুলে পুরসভার রাখা ডাম্পারে ফেলে দেন। বলেন, ‘চারধারে যদি আবর্জনা পড়ে থাকে, তাহলে কি তা দেখতে ভালো লাগে। এ কাজ করে মানুষের ভালোবাসাও পাই। সে কারণেই আমার উৎসাহ।’ তারপর ম্লান হেসে বলেন, ‘এই শহরের মানুষ যদি ভালো থাকেন, তাহলে আমিও ভালো থাকবে। ভালো থাকতে যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলা বন্ধ হওয়া দরকার।’

Advertisement

মানুষটির নাম দীপক সাউ। কিন্তু উত্তর কলকাতা ও শহরতলির মানুষ তাঁকে ডাকে ‘জামাই’ বলে ডাকে। দীপকবাবু বলেন, ‘আমাকে ওই নামেই চেনে সবাই। আমার বাবার দেওয়া নামে কেউ আর ডাকে না।’ আবর্জনা সাফ করার কাজ করার উৎসাহ কিভাবে পেলেন? পরিবেশ সচেতন মানুষটি বলেন, ‘আমার গুরু হলেন সত্যরঞ্জন দলুই। যিনি ইট‑কাঠের রাজপথে মাটির দেখা পেলে গাছ বসান। সবুজ রক্ষা করেন। নানা প্রান্তে টবে লাগানো গাছ দিয়ে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। তাঁর কাছ থেকেই এই কাজে উৎসাহ পেয়েছি। গাছপালা কিনতে তাঁর সঙ্গে যাই আমি।’ কি করে চলে সংসার? পেশায় ভ্যানচালক দীপকবাবু বলেন, ‘মালপত্র এদিক সেদিক দিয়ে যাওয়ার বরাত দেন অনেকে। তা পৌঁছে দিয়ে কিছু রোজগার হয়। রোদে-বৃষ্টিতে কাজ করতে সমস্যাও হয়। কিন্তু পেট বড় বালাই। তাই কষ্ট হলেও ভ্যান নিয়ে বেরই সাতসকালে। বাকি সময় আবর্জনা পরিষ্কার করি।’ 
বুধবার শহরের একটি নির্মীয়মাণ মণ্ডপের চারধারে পড়ে থাকা প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ সাফ করছিলেন। কাজ করতে করতে বলেন, ‘কি হবে আমার কথা জেনে। দিব্যি তো আছি। শেষদিন পর্যন্ত যেন এইভাবেই চলতে পারি।’ কাজের সূত্রে প্রতিদিনই উত্তর কলকাতায় আসেন শ্যামল দাস নামে এক ব্যক্তি। থাকেন বেলঘরিয়াতে। তিনি বলেন, ‘অনেকদিন ধরে দেখছি ওঁকে। মানুষকে ভালোবাসেন উনি। ওঁর কাজের প্রশ্বংসা করি সবাই।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ