কড়াই চাউল, ছোলে, খিচড়ি, আলু-বাঁধাকপি থেকে শুরু করে আরও নানা ধরনের পেটভরা খাবার। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ আর ডিনার ... তাও আবার একেবারে বিনামূল্যে! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা ফুড ব্লগারের কোনও ভিডিও পোস্ট নয়। চলতি দুর্মূল্যের বাজারে ট্রেনের ভিতরেই এহেন ভূরিভোজের অন্যতম প্রয়াস। প্রায় ২৯ বছর ধরে একইভাবে ৩৩ ঘণ্টার সফরে যাত্রীদের পেটপুজো করিয়ে যাচ্ছে সচকন্দ এক্সপ্রেস। যাত্রাপথ মহারাষ্ট্রের নান্দের থেকে পাঞ্জাবের অমৃতসর। ২ হাজার কিলোমিটার দূরত্বের এই সফরে যাত্রীদের তিনবেলা বিনামূল্যে খাবার বিতরণের বিষয়টি সত্যিই হজম না হওয়ার মতো। তবে অবাক লাগলেও এটা বাস্তব।
অমৃতসরের শ্রী হরমন্দর সাহিব গুরুদ্বার থেকে নান্দেরের শ্রী হুজুর সাহিব গুরুদ্বারে ভক্তদের নিয়ে যাওয়াই এই ট্রেনের কাজ। আর লোভনীয় খাবার বিলির রহস্য লুকিয়ে আছে এর মধ্যেই। আদতে প্রত্যেক গুরুদ্বারে যেমন লঙ্গরের ব্যবস্থা থাকে, সেরকমই সফররত পুণ্যার্থীদের জন্য ট্রেনের ভিতরেই তেমন বন্দোবস্ত রয়েছে সচকন্দে। দীর্ঘ যাত্রায় ৩৯টি স্টেশনে ট্রেনটি থামে। তার মধ্যে লঙ্গরের ব্যবস্থা রয়েছে নয়াদিল্লি, ভোপাল, পারভানি, জালনা, আওরঙ্গাবাদ এবং মারাঠওয়াড়ায়। আসলে গুরুদ্বারে যাঁরা সাধারণের খাবারের জন্য অর্থ দান করেন, তা থেকেই সচকন্দ এক্সপ্রেসে এই লঙ্গরের ব্যবস্থা করা হয়। যাত্রীদের শুধু বলে দেওয়া হয়, বাড়ি থেকে যেন থালা-বাসন নিয়ে আসেন। কারণ যাত্রীদের নিজস্ব প্লেটেই তিনবেলার খাবার পরিবেশনের রীতি। ভারতীয় রেলের ইতিহাসে গোটা দেশে অন্তত ৬৭ হাজার কিলোমিটারজুড়ে ১৩ হাজার যাত্রীকে পরিষেবা দেওয়া হয়। দূরপাল্লার বেশিরভাগ ট্রেনেই টাকার বিনিময়ে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম সচকন্দ এক্সপ্রেস। এতগুলি বছর ধরে লঙ্গরের যে পরিষেবা গুরুদ্বারগুলি দিয়ে চলেছে, তা হয়তো অনেকেই জানেন না। এটাই তো সেবা!