প্রতিমার পেট কাটতেই বেরিয়ে এল পুরোহিতের মেয়ে! গদাইপুরের পেটকাটি দুর্গার মাহাত্ম্য প্রাচীন
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বলি বন্ধ করার খেসারত দিতে হয়েছিল নির্মমভাবে। ক্ষুব্ধ হয়ে খোদ পুরোহিতের কিশোরী কন্যাকেই গ্রাস করেছিলেন মহামায়া! শেষে দেবীর স্বপ্নাদেশ মেনে প্রতিমার পেট কেটে সশরীরে উদ্ধার করা হয় সেই কন্যাকে! অলৌকিক ও শিহরণ জাগানো এই প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী মুর্শিদাবাদের সূতি থানা এলাকার গদাইপুর গ্রাম। সাড়ে তিনশো বছরের বেশি পুরানো ঐতিহ্য ও রোমাঞ্চকর ইতিহাস বুকে নিয়ে আজও সেখানকার বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে পূজিত হয়ে আসছেন দেবী— যিনি লোকমুখে খ্যাত ‘পেটকাটি দুর্গা’ নামে। এলাকায় তিনি জাগ্রত দেবী হিসেবেই পূজিতা হন।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে সূতির গদাইপুর গ্রামের ঢালাই রাস্তা দিয়ে কিছুটা এগলেই চোখে পড়বে এই ঐতিহাসিক দুর্গামন্দির। কথিত আছে, প্রায় সাড়ে তিন শতাব্দী আগে এক সন্ধিপুজোর মাহেন্দ্রক্ষণে পুরোহিতের কিশোরী কন্যা পুজোর জোগান দিচ্ছিল। আচমকাই সে উধাও হয়। চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলেও কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। অবশেষে ঠাকুরঘরে ঢুকে পুরোহিত দেখেন, দেবীর মুখে আটকে রয়েছে কন্যার পরিহিত বস্ত্রের একাংশ! কন্যাসন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা পুরোহিত ও তাঁর স্ত্রী ঠাকুরঘরেই দেবীর চরণে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকেন। সেই রাতেই পুরোহিতকে স্বপ্নে দেখা দেন মা দুর্গা। দেবী জানান, পুজোয় প্রথাগত বলি বন্ধ করে দেওয়ায় তিনি রুষ্ট হয়েছেন। রূপসী কিশোরীর রূপ ও ভক্তিতে মুগ্ধ হয়ে তাঁকেই বলি হিসেবে গ্রহণ করেছেন দেবী। তবে একই সঙ্গে দেবী নির্দেশ দেন, পুজোয় ফের ছাগবলি দিয়ে তাঁকে সন্তুষ্ট করতে হবে এবং তারপর তাঁর মাটির প্রতিমার পেট কেটে উদ্ধার করতে হবে সেই কিশোরীকে। দেবীর নির্দেশ মেনে দেবীপ্রতিমার পেট কাটতেই আশ্চর্যজনকভাবে অলৌকিক কাণ্ড ঘটে— অক্ষত ও জীবন্ত অবস্থায় বের হয়ে আসে পুরোহিত-কন্যা!
সেই অঘটন ও অলৌকিক ঘটনার পর থেকেই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের আরাধ্যা দেবী ‘পেটকাটি দুর্গা’ নামেই পরিচিত। মন্দিরের পিছনেই রয়েছে একটি বিশাল পুকুর। প্রতি বছর দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী আসেন দেবী দর্শনে। অনেকে ওই পুণ্য পুকুরে স্নান সেরে দেবীকে অঞ্জলি দেন।
পরিবারের সদস্য তথা মন্দিরের সেবায়েত প্রণয়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মা অত্যন্ত জাগ্রত। ভক্তিভরে যা চাওয়া যায়, মা তা-ই পূরণ করেন। বহু দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা মায়ের দর্শন পেতে ও আশীর্বাদ নিতে আসেন। রঘুনাথগঞ্জের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা মহুয়া রায়ের কথায়, প্রতি বছরই পুজোর সময় পরিবারের সবাইকে নিয়ে গদাইপুর আসি। মায়ের দরবারে এলে এক অদ্ভুত শান্তি পাই।