সংবাদদাতা, রামপুরহাট: জেলা এক। অথচ বিভিন্ন ব্লকে বালির দাম ভিন্ন! জেলা সদর সিউড়িতে যেমন সরকারি আবাস যোজনার উপভোক্তাদের থেকে এক ট্রাক্টর বালির দাম নেওয়া হচ্ছে ১,৫০০ টাকা কিন্তু সেই একই পরিমাণ বালি কিনতে ময়ূরেশ্বরের উপভোক্তাকে খসাতে হবে ৩ হাজার টাকা! বীরভূম জেলায় আবাস যোজনার উপভোক্তাদের জন্য প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া বালির দরের এই ফারাক নিয়ে বিভিন্ন মহল সরব হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পরই জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, একই জেলা প্রশাসনের অধীনে থাকা সত্ত্বেও কেন দুই জায়গায় বালির দামের এই বিপুল ফারাক?
শুক্রবার বিকেলে ওসি, বিএলএণ্ডআরও, বিডিও সহ আধিকাকিরদের নিয়ে বৈঠকে বসেন এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। সেই বৈঠকেই ময়ূরেশ্বরে আবাস যোজনার উপভোক্তাদের জন্য বালির দাম ট্রাক্টর প্রতি ৩ হাজার টাকা বেঁধে দেওয়া হয়। দুধকুমারবাবু বলেন, আবাসের উপভোক্তাদের সাহায্য করতেই এই সিদ্ধান্ত। মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। যদিও জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, দ্রুত জেলা জুড়ে বালির দাম একই হয়ে যাবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ময়ূরেশ্বরের উপভোক্তাদের উপর বাড়তি আর্থিক বোঝা বহাল থাকছে বলে মনে করেন বাসিন্দারা। যদিও দুধকুমারবাবুর যুক্তি, সিউড়িতে কীভাবে দেড় হাজার টাকায় এক ট্রাক্টর বালি দিচ্ছে তা সেখানকার মন্ত্রীই বলতে পারবেন। আমরা ময়ূরেশ্বরে যা ঠিক করেছি, তাতে সরকারি রাজস্ব দিয়েই এখান থেকে বালি কিনতে হবে। গাড়ির মালিক ভাড়া পাবেন। বালির ঘাটের মালিক কম দাম পাবে। এতদিন যেখানে ৬০০০ টাকা নিত, এখন ট্রাক্টর প্রতি সেই বালিই ৩০০০ টাকা নেবে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, একই জেলায় বালির দামের এই বিপুল তারতম্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সিউড়িতে বালি সস্তা হওয়ায় সেখান থেকে অবৈধভাবে বালি এনে ময়ূরেশ্বরে বেশি দামে পাচারের একটি চোরাপথও এতে তৈরি হতে পারে। ফলে সিউড়িতে যেমন বালির কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা থাকছে, তেমনই ময়ূরেশ্বরে কালোবাজারি আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, বৈষম্যের অভিযোগ উড়িয়ে জেলা প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, সিউড়িতে যে ১,৫০০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার মধ্যে পরিবহণ এবং অন্য আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত নেই। অর্থাৎ সেটি কেবল বালির নিজস্ব দাম। অন্যদিকে, ময়ূরেশ্বরে বেঁধে দেওয়া ৩,০০০ টাকার মধ্যে বালি তোলার খরচ, পরিবহণ খরচ সহ সব রকম অতিরিক্ত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে। ফলে দাম নিয়ে কোনো বৈষম্য হয়নি।
তবে একই জেলার রামপুরহাটে ট্রাক্টর প্রতি ৬০০০ টাকা বা তারও বেশি দিয়ে বালি কিনতে হচ্ছে আবাস উপভোক্তাদের।