শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ভিবি জি রামজি প্রকল্পে ডাহা ফেল জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইতের স্ত্রীর নেতৃত্বাধীন গ্রাম পঞ্চায়েত। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের খারুই-২গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান বামদেববাবুর স্ত্রী জয়শ্রী সাউ গুছাইত। সেই পঞ্চায়েতের পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক। গত ১জুলাই থেকে বিকশিত ভারত জি রামজি প্রকল্প চালু হয়েছে। এই চার মাসে খারুই-২পঞ্চায়েতে মাত্র ২৯২টি কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। গত সাত দিনে কর্মদিবসের সংখ্যা ২১টি। একজন জেলা পরিষদের সভাধিপতির নিজের গ্রাম পঞ্চায়েতে ১২৫দিনের কাজের এই বেহাল ছবি কেন, অনেকেই এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১২৫দিনের কাজে পিছিয়ে থাকা ব্লকের মধ্যে অন্যতম শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক। গত ১জুলাই থেকে রাজ্যজুড়ে বিকশিত ভারত জি রামজি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে। তারপর চার মাস সময় পেরিয়ে গিয়েছে। এই চার মাসে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে মাত্র ৪৫২৯টি কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে ১০টি পঞ্চায়েতে চার মাসে সাড়ে চারশো কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। তারমধ্যে বল্লুক-১পঞ্চায়েতে ২৪৭টি, খারুই-১পঞ্চায়েতে ২০৬টি, রঘুনাথপুর-১পঞ্চায়েতে ৪২৫টি, শান্তিপুর-২পঞ্চায়েতে ৫৪৯টি, বল্লুক-২পঞ্চায়েতে মাত্র ২৬টি, ধলহরায় ৭৩৮টি, খারুই-২পঞ্চায়েতে ২৯২টি, রঘুনাথপুর-২পঞ্চায়েতে ১৫৬টি, কার্খদা পঞ্চায়েতে ১১৩৭টি এবং শান্তিপুর-১পঞ্চায়েতে ৭৫৩টি কর্মদিবস তৈরি হয়েছে।
এই মুহূর্তে সারারাজ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ভিবি জি রামজি প্রকল্পে। প্রান্তিক মানুষকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের হাতে টাকা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ২০২৬-’২৭আর্থিক বছরে মোট ১কোটি ৯৫লক্ষ ২৪হাজার কর্মদিবস তৈরির লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে রাজ্য। গত ১অক্টোবর এই জেলার শ্রমিকদের পেমেন্টের জন্য ৬৩কোটি ৫২লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। অথচ, গ্রাম পঞ্চায়েত কাজ দিতে পারছে না। তারা ডাহা ফেল করছে। সেই ব্যর্থ পঞ্চায়েতের লিস্টে জ্বলজ্বল স্বয়ং সভাধিপতির স্ত্রীর গ্রাম পঞ্চায়েতও।এই মুহূর্তে ভিবি জি রামজি প্রকল্পে পূর্ব মেদিনীপুরকে টপকে অন্যান্য জেলা উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর। ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে পড়ার ঘটনায় ছেদ টানতে গত ২ ও ৩নভেম্বর পর পর দু’দিন কাঁথি ও কোলাঘাটে দু’টি করে মোট চারটি মহকুমার প্রশাসন ও পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে রিভিউ মিটিং হয়। সেই মিটিংয়ে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে বেহাল পারফরম্যান্সের জন্য প্রত্যেক পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ককে শোকজ করার নির্দেশ দেন জেলাশাসক।
খারুই-২গ্রাম পঞ্চায়েতে ব্লকের মধ্যে সবচেয়ে কম মাত্র ৬২টি স্কিম হাতে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পঞ্চায়েত স্কিম তৈরি করতে পারছে না। অথচ, বল্লুক-১৭৯টি, রঘুনাথপুর-২ পঞ্চায়েত ১৫৯টি, খারুই-১গ্রাম পঞ্চায়েত ১৪১টি স্কিম নিয়েছে। সেখানে সভাপতির স্ত্রী পঞ্চায়েত প্রধান হওয়া সত্ত্বেও খারুই-২গ্রাম পঞ্চায়েতে মাত্র ৬২টি স্কিম গ্রহণ করা হয়েছে।
এনিয়ে খারুই-২পঞ্চায়েতের প্রধান জয়শ্রী সাউ গুছাইত বলেন, বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকায় ভিবি জি রামজি প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যান্য পরিকাঠামোগত কাজে বাধা হচ্ছে বালির দাম। এজেন্সি টেন্ডারে ঠিকমতো অংশ নিচ্ছে না। এই অবস্থায় বিডিও ন্যায্যমূল্যে বালির জোগাড় করার বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আশা করি, ছবিটা দ্রুত আমরা বদলে দিতে পারব।



