হিউস্টন: ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ! একা একটা জাতির স্বপ্ন কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন এক ফুটবলার— ইউসেবিও দ্য সিলভা ফেরেইরা। ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ সেই টুর্নামেন্টে ৯টি গোল করে পেয়েছিলেন গোল্ডেন বুট। পর্তুগালও তৃতীয় স্থানে অভিযান শেষ করে। যা আজও বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ৬০ বছর। মহার্ঘ্য বিশ্বকাপ এখনও অধরা পর্তুগিজদের। এবার ফের সুযোগ রয়েছে অধরা মাধুরী স্পর্শের। বুধবার গ্রুপ কে’র ম্যাচে হিউস্টনে কঙ্গোর মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল। এবার রোনাল্ডো কি পারবেন ইউসেবিও হয়ে উঠতে? ৪১ বছর বয়সে শেষ বিশ্বকাপ রাঙাতে? উত্তর লুকিয়ে সময়ের গর্ভে। আপাতত কঙ্গোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের অভিযানটা মধুর করাই লক্ষ্য রবার্তো মার্তিনেজ-ব্রিগেডের।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নামার আগে মাঠের বাইরের বিভিন্ন কান্ডে সমস্যায় পর্তুগিজ শিবির। এবার মেগা আসরে রোনাল্ডোরা বেসক্যাম্প গড়ছেন পাম বিচ গার্ডেন্সে। তার পাশেই রয়েছে একটি লেক। প্রস্তুতির পর ফুটবলাররা তার ধারে কিছু সময় বসে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি সেই লেকে কয়েকটি কুমির দেখা যায়। তারপরই থেকেই শিবিরে ভয়ের আবহ। প্লেয়াররা হোটেল রুম থেকেও বেরতে চাইছিলেন না। তবে কর্তৃপক্ষ তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তারউপর যাতায়াতের ক্লান্তি। প্রথম ম্যাচ খেলতে পর্তুগালকে হিউস্টনে পাড়ি দিতে হচ্ছে। যা ফ্লোরিডার পাম বিচ থেকে ১৭৮৮ কিলোমিটার দূরে। আমেরিকার গরমে এতটা পথ যাতায়াতে রীতিমতো চিন্তায় কোচ। মঙ্গলবারই দল হিউস্টনে পাড়ি দিয়েছে। যাতে প্লেয়ারদের ক্লান্তি না ভোগায়। তবে শক্তির নিরিখে কঙ্গোর থেকে অনেক এগিয়ে পর্তুগাল। পচা শামুকে পা না কাটলে এই ম্যাচে রোনাল্ডোরাই হট ফেভারিট। আক্রমণভাগে পর্তুগালের প্রধান অস্ত্র অবশ্যই রোনাল্ডো। মেগা আসরের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে অবশ্য গোলের দেখা পাননি সিআরসেভেন। তবুও কোচ মার্তিনেজ তাঁকে নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন। পর্তুগালের হেডস্যারের কথায়, ‘এই টিমে রোনাল্ডোর বিকল্প নেই। ওর উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’ মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, ভিটিনহা, হোয়াও নেভাস বড় ভরসা। সবমিলিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে হারাতে তৈরি মার্তিনেজ-ব্রিগেড। পক্ষান্তরে, ১৯৭৪ সালের পর পর কঙ্গো বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছে। দলে ওয়ান বিশাকা, মেম্বা, বাকাম্বর মতো ফুটবলার রয়েছেন। যাঁরা ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে খেলেন।