Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘পুলিশ কিছু করবে না’, শপিং মলের পানশালা কর্মীকে ধর্ষণে ধৃত মালিক

দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত শপিং মল। সেখানকার পানশালায় কর্মরত এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল তারই মালিকের বিরুদ্ধে।

‘পুলিশ কিছু করবে না’, শপিং মলের পানশালা কর্মীকে ধর্ষণে ধৃত মালিক
  • ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত শপিং মল। সেখানকার পানশালায় কর্মরত এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল তারই মালিকের বিরুদ্ধে। কাজকর্ম ও বেতন নিয়ে আলোচনা করতে হবে—এই অজুহাতে যাদবপুরের বাড়িতে ডেকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে তাঁকে। পানশালা মালিক ব্যাপক মারধরও করেছেন বলে অভিযোগ। এর জেরে কয়েকদিন নির্যাতিতাকে সরকারি হাসপাতালে পর্যন্ত ভরতি থাকতে হয়েছে। ছাড়া পেয়েই যাদবপুর থানায় অভিযোগ জানান তিনি। তার আগে অবশ্য লাগাতার হুমকি শুনতে হয়েছে তাঁকে। ‘পুলিশ কিছু করতে পারবে না’—এমনটাই বারবার পানশালার মালিক জাভেদ আহমেদ বলেছেন বলে দাবি নির্যাতিতার। তদন্তে নেমে অভিযুক্ত জাভেদকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে যাদবপুর থানা।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস ছয়েক আগে কাজের খোঁজে এক বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ওই তরুণী। তিনিই জানিয়েছিলেন, যাদবপুরের অভিজাত শপিং মলের ফুড কোর্টে লোক নেওয়া হবে। বান্ধবীর মাধ্যমেই সেখানে যোগাযোগ করেন তরুণী। কয়েকদিনের মধ্যেই সেখানকার পানশালায় কাজে যোগ দেন তিনি। আর্থিকভাবে একেবারেই স্বচ্ছল নন, সে কথা গোপনও ছিল না। অভিযোগ, সেই সুযোগই নেন পানশালার মালিক। আলাপ জমান তাঁর সঙ্গে। বলেন, কিছুদিনের মধ্যে বেতন বাড়িয়ে দেবেন। প্রায়ই তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন জাভেদ। গতমাসে তরুণীকে হঠাৎই জানান, কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা আছে। বেতন নিয়েও কথা বলব। বাড়িতে এসো। সরল বিশ্বাসে সেখানে যান তরুণী। অভিযোগ, সেখানেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। তারপর হুমকি দেওয়া হয়, বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে ফল ভালো হবে না। বিভিন্ন মহলে তাঁর প্রভাব রয়েছে। বহু পুলিশও চেনা। তাই থানায় গিয়ে লাভ নেই। ভয় পেয়ে যান তরুণী। সেই সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত প্রস্তাব দেন, বিয়ে করব। চিন্তা নেই। এমন প্রতিশ্রুতিকে ঢাল করেই একাধিকবার তরুণীকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত। বাধা দিলে প্রবল মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। সেই কারণেই হাসপাতালে ভরতি ছিলেন নির্যাতিতা। ছাড়া পেয়ে পানশালা মালিকের কাছে গিয়েছিলেন তরুণী। বিয়ে দূরঅস্ত, তাঁকে সাফ এড়িয়ে যান জাভেদ। শুক্রবার তরুণী যাদবপুর থানায় অভিযোগ করেন। ধর্ষণের কেস রুজু করে পুলিশ। তরুণীর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয় এবং বাজেয়াপ্ত করা হয় জামা-কাপড়। শনিবার গভীর রাতে অভিযুক্ত জাভেদকে গ্রেফতার করে যাদবপুর থানা। তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি এর আগেও একাধিক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। অভিযুক্তকে রবিবার আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য বলেন, ‘অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।’ সওয়াল শেষে অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে পাঠায় আদালত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ