Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভুয়ো নথি দিয়ে আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ফাস্ট্যাগও, শুভেন্দু-সঙ্গী খুনের চক্রান্ত দীর্ঘদিন ধরেই, ফাঁস তদন্তে

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকদিন আগেই!

ভুয়ো নথি দিয়ে আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ফাস্ট্যাগও, শুভেন্দু-সঙ্গী খুনের চক্রান্ত দীর্ঘদিন ধরেই, ফাঁস তদন্তে
  • ১১ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকদিন আগেই! তারই প্রমাণ বহন করছে ঝাড়খণ্ড থেকে শার্প শ্যুটারদের নিয়ে আসা গাড়ির ফাস্ট্যাগ। ভুয়ো আধার ব্যবহার করে খোলা হয়েছিল অ্যাকাউন্ট। সেই গাড়ির আগের ফাস্ট্যাগ ফেলে দিয়ে নতুন লাগানো হয়। তার সঙ্গে লিংক করানো হয় ভুয়ো অ্যাকাউন্টটির। একাধিক টোল প্লাজায় এর মাধ্যমেই করা হয়েছিল পেমেন্ট। এটাই এখন অস্ত্র সিটের সদস্যদের। তদন্তকারীরা নিশ্চিত, নেপথ্যে রয়েছে ‘অর্গানাইজড গ্যাং’। তা ছাড়া এভাবে প্লট সাজানো সম্ভব নয়। পুরানো ফাস্ট্যাগ থাকলে গাড়ির আসল মালিকের কাছে মেসেজ চলে যেত। আর শুরুতেই ধরা পড়ে যেত দুষ্কৃতীরা। 

Advertisement

আর তাই চন্দ্রনাথের ‘পথ আটকানো’ ওই নিসান গাড়িটিই এখন তদন্তকারীদের মূল সূত্র। ইতিমধ্যেই তাঁরা ১০০’র বেশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে নিবেদিতা সেতু, ডানকুনি ও দ্বিতীয় হুগলি সেতুর মতো টোল গেটও। সেখানকার ক্যামেরায় এই গাড়িটির ছবি ধরা পড়েছে। সেইসঙ্গে টোল প্লাজাগুলি থেকে পেমেন্টের ডিটেইলস নিতেই হাতে এসেছে ‘ক্লু’। তদন্তকারীরা দেখেন, যে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ফাস্ট্যাগ লিংক করা রয়েছে, সেটি উত্তরপ্রদেশের এক ব্যক্তির। অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য জমা নথি যাচাই করতে গিয়ে মেলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—ওই নামে কোনো নাগরিকই নেই! নাম, ঠিকানা সবই জাল। আধারের সঙ্গে ব্যক্তিরও অস্তিত্ব নেই। আধার নম্বর চুরি করে অন্য একজনের ছবি বসিয়ে জাল নথি তৈরি করা হয়েছে। তারপর সেই আধার ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য। অফিসাররা নিশ্চিত, জাল নথির কারবারিদের থেকেই এই নথি কেনা হয়েছিল। পাশাপাশি এই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে ঝাড়খণ্ডের এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে। কে সেই ব্যক্তি? অভিযুক্তদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু করে দিয়েছেন তদন্তকারীরা। উপরন্তু, দক্ষিণ বন্দর থানা এলাকার কাঁটাপুকুর মর্গের কাছে একটি গাড়ি উদ্ধার ঘিরে রহস্য বেড়েছে। এই গাড়িটিকেই চন্দ্রনাথ খুনের পরের দিন মধ্যমগ্রাম থেকে বালি ব্রিজ হয়ে আসতে দেখা গিয়েছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে। গাড়িটি সেকেন্ড ব্রিজের টোল মিটিয়ে কাঁটাপুকুর মর্গের কাছে আসে। তার থেকে দু’জন নেমে দু’টি বাইকের পিছনে উঠে চলে যায়। এই গাড়ি কার? দাবি জানাতে কেউ এপর্যন্ত থানায় আসেনি। নজর করার বিষয় হল, এর নম্বর প্লেটও জাল। এইসব দেখেই তদন্তকারীরা বুঝেছেন, গোটা বিষয়টা সাজানো হয়েছে ঠান্ডা মাথায়। তদন্তের দিশা ঘেঁটে দিতে। প্রশ্ন আরও আছে—ফাস্ট্যাগ নিতে গেলে গাড়ির আসল কাগজপত্র প্রয়োজন। চোরাই গাড়ির ক্ষেত্রে শ্যুটাররা সেইসব পেল কীভাবে? অনলাইন ডাউনলোড করা হয়েছিল? নাকি দালাল মারফত পরিবহণ দপ্তর থেকে জোগাড় করেছিল? তদন্তকারীরা বুঝতে পারছেন, পুলিশ কোন পথে এগতে পারে, সেটা আগাম ভেবে নিয়েই অপারেশন প্ল্যান করা হয়েছে। পাকা মাথায়। এদিন রাতেই ভিনরাজ্য থেকে আর একজনকে আটক করে আনা হয়েছে কলকাতায়। সেই কি হতে চলেছে রহস্য ফাঁসের ঘুঁটি?

সম্পর্কিত সংবাদ