নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ‘আরত্রিক’ ও ‘প্রকৃতি’। পুজোয় এই অভিনব দু’টি থিমে সেজে উঠছে শিলিগুড়ির দেশবন্ধুপাড়া। প্রথমটিতে সাড়ে ৭ হাজার তেলের টিন দিয়ে দশভুজাকে বরণ ও আরতির উপকরণ ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। তালিকায় মাটি, ফুল, জল, পঞ্চ প্রদীপ ও শঙ্খ রয়েছে। দ্বিতীয় থিমে নারকেল, কদবেল, বাদামের চোচা সহ ৪২ ধরনের পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে মণ্ডপ গড়া হচ্ছে। দর্শনার্থী টানা নিয়ে কার্যত প্রতিযোগিতায় নেমেছে উভয় পুজো কমিটি। রবিবার কলকাতা থেকে ভার্চুয়ালি সংশ্লিষ্ট দু’টি মণ্ডপের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংশ্লিষ্ট দুই পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের দাবি, এবার তাঁদের মণ্ডপই সেরা হবে।
শিলিগুড়ি শহরের বিগ বাজেটের পুজো কমিটির মধ্যে দাদাভাই স্পোর্টিং ক্লাব অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে তারা দুর্গাপুজোয় থিম পুজো করছে। গত বছর তারা পাথর এবং ২০২৩ সালে জিন্সের কাপড় দিয়ে মণ্ডপ গড়ে চমক দিয়েছিল। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বিশ্ববাংলা সম্মান পেয়েছিল। এবার তাদের ৪৪তম বছরের পুজো। তারা দর্শনার্থীদের চমক দিয়ে বাঁশ ও লোহার কাঠামোয় তেলের টিন দিয়ে মণ্ডপ গড়ছে।
দাদাভাই স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো কমিটির সম্পাদক রবীশঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, এবার এখানকার থিম-আরত্রিক। স্থানীয় শিল্পী বুম্বা থিমের রূপ দান করছেন। মূলত সাড়ে সাত হাজার তেলের টিন ও লোহার রড দিয়ে মণ্ডপটি গড়া হচ্ছে। এতে দশভুজাকে বরণে ব্যবহৃত পাঁচটি উপকরণ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে। মণ্ডপের ভিতরের ও বাইরের দেওয়ালে দেখা যাবে-মাটি, ফুল, জল, পঞ্চ প্রদীপ ও শঙ্খ। তাতে থাকবে মানানসই আধুনিক প্রতিমা ও আলোকসজ্জা। এদিন মণ্ডপের উদ্বোধন করা হলেও তা দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে চতুর্থীতে।
দেশবন্ধুপাড়ায় আরএকটি উল্লেখযোগ্য পুজো কমিটি সুব্রত সংঘ। বরাবর তারা থিমপুজো করছে। এবার তাদের পুজোর ৬৮তম বর্ষ। তাদের থিম-প্রকৃতি। বাঁশ, কাঠ, নারকেল, কদবেল, দড়ি, বাদামের চোচা প্রভৃতি দিয়ে কাল্পনিক মণ্ডপ গড়া হচ্ছে। তাতে থাকবে মানানসই প্রতিমা। তাতে কোনও রং ব্যবহার করা হচ্ছে না। দশভুজার শরীরে থাকবে মাটির শাড়ি।
সুব্রত সংঘের সভাপতি ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, বিভিন্নভাবে প্রকৃতি ধ্বংস হচ্ছে। তাই প্রকৃতি রক্ষা করার বার্তা নিয়েই পরিবেশবান্ধব ৪২ ধরনের উপকরণ দিয়ে মণ্ডপসজ্জা করা হচ্ছে। যা গড়ছেন মেদিনীপুরের শিল্পী। মণ্ডপের সঙ্গে মানানসই প্রতিমা ও আলোর ব্যবস্থা করা হবে। এদিন মণ্ডপের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এখনও মণ্ডপে কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তাই তৃতীয়া থেকে দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপ খুলে দেওয়া হবে।
নিজস্ব চিত্র।