


নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: আইআরসিটিসি থেকে রেল টেল। ওএনজিসি থেকে রাষ্ট্রীয় ইস্পাত নিগম লিমিটেড। কিংবা রেল বিকাশ নিগম। দেশের একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় ‘রেগুলার’ বা কর্মীর তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় রয়েছে অস্থায়ী কিংবা চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী। সোমবার সংসদে এহেন পরিসংখ্যান পেশ করেছে মোদি সরকার। এরফলে প্রশ্ন উঠছে যে, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় কি ‘রেগুলার’ কর্মী নিয়োগ একপ্রকার বন্ধই করে দিয়েছে মোদি সরকার? গালভরা যেসব কর্মসংস্থানের দাবি করা হচ্ছে, সার্বিকভাবে তা কি শুধুই চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের উপর ভিত্তি করে?
একই কাজের ক্ষেত্রে ‘রেগুলার’ এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতনে বৈষম্য সংক্রান্ত বিষয়ে সোমবার লোকসভায় লিখিত প্রশ্ন করেন সমাজবাদী পার্টির (সপা) সাংসদ রাজীব রাই। এরই জবাবে কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে প্রসঙ্গক্রমে দেশের ২৬টি ‘নবরত্ন’ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার রেগুলার এবং ক্যাজুয়াল অথবা কন্ট্রাক্টচুয়াল কর্মীদের তুল্যমূল্য পরিসংখ্যান পেশ করেছেন। ওই তথ্য অনুসারে, সংশ্লিষ্ট ২৬টি ‘নবরত্ন’ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় ‘রেগুলার’ কর্মী সংখ্যা মোট ৬৯ হাজার ৮৯৭ জন। অথচ চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা মোট ৭২ হাজার ১১১ জন। অর্থাৎ, ২৬টি ‘নবরত্ন’ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সর্বমোট কর্মচারীর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মী। এই হার প্রায় ৫১ শতাংশ। তথ্য অনুসারে, রাষ্ট্রীয় ইস্পাত নিগম লিমিটেডে ‘রেগুলার’ কর্মী ১০ হাজার ৯৪৩ জন। সেখানে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ১২ হাজার ৪৮৭ জন। ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেডে রেগুলার কর্মী মাত্র ২০৪ জন। অথচ চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ছ’গুণ বেশি। ১ হাজার ২৩৩ জন। রেল টেল কর্পোরেশন ইন্ডিয়া লিমিটেডে যেখানে ‘রেগুলার’ কর্মী ৫৬৭ জন, সেখানে অস্থায়ী কর্মচারীর সংখ্যা ২ হাজার ৭৩ জন। অর্থাৎ প্রায় চার গুণ বেশি। আইআরসিটিসিতে ‘রেগুলার’ কর্মী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর সংখ্যা যথাক্রমে ১ হাজার ৩৩৮ জন ও ১ হাজার ৪০১ জন। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৩৩৩ জন এবং ৫৭৭ জন। ন্যাশনাল ফার্টিলাইজার্স লিমিটেডে ‘রেগুলার’ কর্মীর সংখ্যা ২ হাজার ৫১১ জন। এই সংস্থায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের পাবলিক এন্টারপ্রাইজেস সার্ভে অনুসারে সোমবার এই খতিয়ান দিয়েছে কেন্দ্র। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উল্লিখিত সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশিত বলে জানিয়েছে সরকার।