নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: শিক্ষক সংকটে ভুগছে রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলের একটি অংশ। সেসব জায়গায় পড়ুয়া আছে কিন্তু শিক্ষক সংখ্যা ‘শূন্য’ কিংবা মাত্র একজন। এতে পঠনপাঠনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। শিক্ষাদপ্তরের তরফে প্রকাশিত তালিকায় বলা হয়েছে, রাজ্যের ২,২১৫টি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক সংখ্যা শূন্য অথবা মাত্র একজন। এমন ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জেলার ভিতরেই বদলির মাধ্যমে স্কুলগুলিকে সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, একটি স্কুলে ৬০ জন পড়ুয়া পিছু অন্তত দু’জন শিক্ষক থাকা দরকার। কিন্তু অনিয়মিত নিয়োগের কারণে অনেক স্কুলই শিক্ষক সংকটে ভুগছে।
প্রতিবছর কিছু শিক্ষক অবসর নেন। চাকরি ছেড়েও দেন অনেকে। ফলে শিক্ষকের কিছু পদ শূন্য হতেই থাকে। কিন্তু সেই জায়গায় দ্রুততার সঙ্গে নতুন শিক্ষক নিয়োগ হয় না। শিক্ষকদের একাংশের মতে, আজকে দু’হাজারের বেশি স্কুলে শিক্ষকের অভাব দেখা দিয়েছে। এই সমস্যার সুরাহায় জেলার মধ্যে যেসব স্কুলে বাড়তি শিক্ষক রয়েছেন, সেখান থেকে তাঁদের তুলে এনে শিক্ষকহীন স্কুলে বদলি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজ্যে বর্তমানে প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা ৪৯,৩৬৮। তার মধ্যে শিক্ষক-শূন্য এবং ‘ওয়ান টিচার’ স্কুল সবচেয়ে বেশি পুরুলিয়া জেলায় (৩৭২)। সংখ্যাটি তারপরই বাঁকুড়ায় (৩৭১)। এছাড়া ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূমসহ কয়েকটি জেলায় এমন স্কুলের সংখ্যা শতাধিক। ওই স্কুলগুলিতে স্থায়ীপদে শিক্ষক নিয়োগের কাজ কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হবে। আশা করছেন শিক্ষাদপ্তরের কর্তারা।