Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নতুন প্রজন্ম আগ্রহ হারিয়েছে কৃষ্ণনগরে অবলুপ্তির পথে শোলা শিল্প

দুর্গা থেকে কালী সমস্ত দেবদেবীর অঙ্গসাজ যদি শোলার হয় তাহলে চোখ ফেরাতে পারেন না দর্শনার্থীরা

নতুন প্রজন্ম আগ্রহ হারিয়েছে কৃষ্ণনগরে অবলুপ্তির পথে শোলা শিল্প
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: দুর্গা থেকে কালী সমস্ত দেবদেবীর অঙ্গসাজ যদি শোলার হয় তাহলে চোখ ফেরাতে পারেন না দর্শনার্থীরা। দেব-দেবীর শোলার সূক্ষ্ম কাজ দর্শনার্থীদের চোখ আটকে যায়। কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল যেমন বিশ্বখ্যাত, তেমনই শোলার সাজও মুগ্ধ করে সবাইকে। শুধু প্রতিমার অঙ্গসাজ নয়, বিয়ের টোপর, মালা সবেতেই কৃষ্ণনগরের শোলার কাজ জ্বলজ্বল করে। সারা দেশে এর বিশেষ কদর রয়েছে। কিন্তু, তরুণ প্রজন্ম এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ হারানোয় কৃষ্ণনগরের শোলা শিল্প কার্যত অবলুপ্তির পথে ।

Advertisement

একসময় শোলা শিল্প ছিল কৃষ্ণনগরের গর্ব। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির পার্শ্ববর্তী চকেরপাড়া, বাগদিপাড়া, নাজিরাপাড়া, আনন্দময়ীতলা চত্বরে বহু শোলাশিল্পী ছিলেন এবং এখনও অনেকে আছেন। তারা দিনরাত এক করে তৈরি করেন দেবী মূর্তির সাজ, গয়না, নকশাকাটা টোপর, মালা। শোলার তৈরি শিল্পকর্মের যথেষ্ট চাহিদাও আছে। কিন্তু নতুন প্রজন্ম এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ হারানোয় কমছে দক্ষ শিল্পীর সংখ্যা। নতুন প্রজন্মের বক্তব্য, এই শিল্পকে সম্বল করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। পরিশ্রমের সঠিক মূল্য মেলে না।
বাগদিপাড়ার প্রবীণ শিল্পী প্রফুল্ল বাগ বলেন, কয়েক যুগ শোলার কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। বর্তমানে আমার ছেলেরাই কাজ করে। প্রচুর অর্ডার আসছে। কিন্তু কর্মীর অভাবে কাজ নিতে পারছি না। আসলে বর্তমান প্রজন্মের কেউ একাজ শিখতে চাইছে না। অপর এক শিল্পী উত্তম বাগ বলেন, এ কাজে অনেক পরিশ্রম এবং ধৈর্যের প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মের এত ধৈর্য নেই। এখানে আবার পরিশ্রম অনুযায়ী টাকাও পাওয়া যায় না। স্বভাবতই নতুন শিল্পী উঠে আসছে না। 
অধিকাংশ শিল্পীর বক্তব্য, এই শোলা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে এই শিল্পের প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। তারজন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র জরুরি। সেই সঙ্গে অনলাইন বিপণনের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। পরিশ্রমের মূল্য পাওয়া গেলে ফের এই শিল্পে জোয়ার আসবে। নতুন প্রজন্মও এই শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ