


সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: প্রতীক ভিন্ন। লড়াইয়ের ময়দানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ। রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন দলের প্রার্থী হলেও সকলেই তাঁরা শিক্ষক। পাড়া বিধানসভায় এবার তিন শিক্ষক সম্মুখ সমরে। অলোক-মানিক-চাঁদের প্রচারে পাড়া বিধানসভা জমজমাট হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’বারের তৃণমূল বিধায়ক উমাপদ বাউরিকে ২০২১ সালে প্রার্থী করা হয়েছিল। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। গতবারের নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করতে পারেননি। বিজেপি প্রার্থী জয়লাভ করেছিল। তাই এবার বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল নতুন মুখ এনেছে। এবার উদয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মানিক বাউরিকে তৃণমূল প্রার্থী করেছে। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন শাখা সংগঠনের দায়িত্ব সামলেছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পরেই প্রচার শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার মৌতড় কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন। এলাকায় মিছিল করেন।
মানিকবাবু বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে মানুষের উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছেন, তাতে সাধারণ মানুষ ব্যাপক খুশি। প্রতিটি এলাকায় প্রচারে ব্যাপক সাড়া মিলছে। ইতিমধ্যে কর্মীরা প্রতিটি জায়গায় দেওয়াল লিখন, ঝান্ডা লাগানো থেকে শুরু করে প্রচার শুরু করেছেন। জয় নিশ্চিত।
বিজেপির তরফে গতবারের বিধায়ক নদীয়ারচাঁদ বাউরিকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। তিনি এলাকার পরিচিত মুখ। পোড়াডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নদীয়ারবাবু প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তবে গত পাঁচ বছরে তিনি এলাকায় তেমনভাবে উন্নয়নের কাজ করতে পারেননি। তা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ রয়েছে। যার জন্য অনেক জায়গায় তাঁকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে।
নদীয়ারচাঁদবাবু বলেন, বিধায়ক তহবিলের কাজ করতে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। রাজ্য সরকার বিধায়ক তহবিলের কাজ করতে নানা বাধার সৃষ্টি করে। তবে মানুষের ভালোবাসা আর তৃণমূলের অপশাসনের জন্য আবার জয়লাভ করব।
বাম দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন সিপিএম প্রার্থী অলক বাউরি। নাম ঘোষণার পরেই তিনি এলাকায় প্রচারে নেমেছেন। অলোকবাবুর বাড়ি পাড়া ব্লকের দুবড়া এলাকায়। তিনি মুদিডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এলাকায় বেশ নাম ডাক রয়েছে। বাম আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদের আসনে এবং ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত সমিতির আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে জয়লাভ করতে পারেননি। অলোকবাবু বলেন, যেখানে প্রচারে যাচ্ছি, মানুষের মুখে একটাই কথা, ‘সিপিএম ভালো ছিল’। বিধানসভার মানুষ তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে বিজেপিকে ভোট দিয়ে বিধায়ক করেছিলেন। কিন্তু, পাঁচ বছরে বিধায়ক এলাকার কাজ করতে ব্যর্থ। তাই মানুষ বামে ফিরছে। প্রতিটি মিছিল ও সভায় ব্যাপক সাড়া মিলছে।