


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভোটার তালিকায় বিচারাধীন হিসেবে নাম রয়েছে আসানসোল পুরসভার ডেপুটি মেয়র ওয়াশিমূল হকের। তিনি আসানসোল পুরসভার তিনবারের কাউন্সিলার। সব বৈধ নথি থাকা ও জমা দেওয়া সত্বেও তৃণমূলকে হয়রানি করতে বিজেপির কথায় নির্বাচন কমিশন এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ তাঁর। দুর্গাপুরে বহু তৃণমূল কর্মী সমর্থকের নাম হয় বিচারাধীন, না হলে ডিলিট উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তৃণমূল নেতা, কর্মীরাই নন। বহু সাধারণ মানুষ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা দেখে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়েছেন। জীবিত মানুষকে খসড়া ভোটার তালিকায় মৃত হিসাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ফর্ম-৬ জমা করে নাম তোলার আবেদন করেছিলেন। তাঁর নামও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নেই। ২০০২ সালের এসআইআরে নাম থাকা ভোটারেরও নাম ডিলিট হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে শিল্পাঞ্চলজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
সোমবার ছিল আসানসোল পুরসভার বাজেট। সেখানেই ডেপুটি মেয়রের ভোটার তালিকায় নাম বিচারাধীন হওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ওয়াশিমূল শিল্পাঞ্চলে পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। একদা সিপিএমের দাপুটে যুব নেতা ছিলেন। পরবর্তীকালে তৃণমূলে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি আসানসোল পুরসভার ডেপুটি মেয়র। তাঁর বাড়ি আসানসোল রেলপারের কশাইমহল্লায়। শুনানি পর্বে নির্বাচন কমিশনের নোটিস পেয়ে হিয়ারিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। স্কুলের শংসাপত্র থেকে পাসপোর্ট সবই দেখিয়েছেন। তারপরও ওয়াশিমূলের নাম বিচারাধীন। তিনি বলেন, ‘শুধু আমার নয়, আসানসোল রেলপাড়ের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথগুলিতে ১৪০-১৫০ জনের নাম বিচারাধীন হিসাবে রেখে দেওয়া হয়েছে। এই এলাকাটি আসানসোল উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত। বিধায়ক মলয় ঘটকই রাজ্যের শ্রম ও আইনমন্ত্রী। তাঁর বিধানসভা এলাকাতেই বিচারাধীন তালিকায় জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮ হাজারের বেশি মানুষের নথি যাচাই করতে হবে বিচারকদের। দুর্গাপুরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নমিতা দাসের বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক। জীবিত এই মহিলা কমিশনের নিয়ম মেনে ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেন। খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁকে মৃত দেখানো হয়। তিনি যে জীবিত তাঁর প্রমাণ নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়ার পরও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম আসেনি। অর্থাৎ, ফর্ম ৬ জমা করার পরও জীবিত ভোটার নির্বাচন কমিশনের নজরে মৃত হিসাবেই রয়ে গেলেন বলে তৃণমূল তোপ দেগেছে। দুর্গাপুরে ২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের দলের বহু সক্রিয় কর্মী, সমর্থকদের নাম স্বপরিবারে ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। কমিশন এটা করেছে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রোণোদিত হয়ে। নমিতাদেবীর মতো মানুষ যিনি কোনও দলের সঙ্গেই যুক্ত নন তাঁরাও ভোট দিতে পারবেন না?
বিজেপি কী চায়। কাঁকসা ব্লকের মলানদিঘির সন্ধ্যা গোপ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। গত এসআইআরে নাম থাকা এই মহিলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নামের উপর লেখা রয়েছে ডিলিট। বিজেপি জেলা সহসভাপতি প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, আমাদের অবস্থান প্রথম থেকেই স্পষ্ট, যেন কোনও বৈধ ভোটার বাদ না যায়। কোনও অবৈধ ভোটারের নাম তালিকায় না থাকে। বিচারকরা তো সঠিক বিচার করবেন।