বিলাসের নাম ব্রহ্মচারী কপিল (স্বামী বিশ্বেশ্বরানন্দ)। ১৪ ছোকরাটি অতি ভাল-শ্রীমার সন্তান। নাগমহাশয়ের ভক্ত ঢাকার নারিন্দাবাসী হরপ্রসন্ন মজুমদার মহাশয় ইহাকে মঠে আনেন। ছেলেটি ভাল বোধ হওয়ায় তাহাকে শ্রীমার বাটীতে উদ্বোধন কার্যালয়ে সহকারিরূপে আনিয়া রাখা হয়। ইহার আসিবার কিছুদিন পরে রাসবিহারী (স্বামী অরূপানন্দ) নামে অপর একটি ছোকরা মঠে আসিয়া থাকে। এটিও শ্রীমারের সন্তান। ছেলেটি বড় সরল।... ইহাকেও উদ্বোধন কার্যালয়ে সহকারিরূপে রাখিয়া দেওয়া হয়।
বাবুরাম মহারাজের ভাই শান্তিরামবাবু পূর্ব হইতে রেলের একখানি দ্বিতীয় শ্রেণির কামরা রিজার্ভ করিয়া এবং তিনখানি ইন্টারক্লাসের টিকিট ক্রয় করিয়া রাখিয়াছিলেন। ঐ দ্বিতীয় শ্রেণির কামরায় শ্রীমা, রাধু, ছোটমামি, গোলাপ-মা, রামের মা এবং নিতাইয়ের মা উঠিলেন। আমরা তিনজনে ইন্টারক্লাসে চড়িলাম। রামও নিজের জন্য একখানি টিকিট লইয়া আমাদের সঙ্গে ইন্টারক্লাসে চলিলেন।...
প্রায় অর্ধরাত্রে বি.এন. রেলওয়ের ভদ্রক স্টেশনে পৌঁছিয়া দেখা যায়, বাবুরাম মহারাজের অগ্রজ তুলসীরামবাবু এবং রামের জমিদারির ম্যানেজার হরপ্রসন্ন মজুমদার মহাশয় যানবাহনাদিসহ অপেক্ষা করিতেছেন। রামের ভদ্রকস্থ কাছারিবাটীতে মাতুল তুলসীরামবাবু থাকেন। তাঁহার একান্ত আগ্রহে শ্রীমা সেখানে খানিকক্ষণের জন্য অবতরণ করিলেন। পরে পালকি ও তাঞ্জামে করিয়া আট-নয় ক্রোশ দূরবর্তী কোঠারে যান। মায়েদের রাখিয়া তাঞ্জামগুলি ফিরত আসিলে তাহাতে আমরা যাই।
কোঠারে শ্রীমা অন্দরমহলে এবং আমরা কাছারিবাটীতে অবস্থান করি। ন্যূনাধিক দুইমাস এখানে অবস্থান করা হয়। দিনে দুইবার শ্রীমা আমাদের সহিত কথা কহিবার বা পত্রাদি শুনিবার এবং উত্তর লিখাইবার উদ্দেশে খিড়কিমহলে আসিতেন এবং আমরা খিড়কিদ্বার দিয়া তথায় যাইতাম। আমাদের অবস্থানকালে একদিন কেদার (স্বামী অচলানন্দ) আসিলেন এবং তথায় রহিয়া গেলেন।› পরের বাটীতে অবরুদ্ধভাবে থাকায় ছোটমামির মাথা খারাপ হইয়া পড়ে এবং শ্রীমার আদেশে লেখক তাঁহাকে জয়রামবাটী রাখিয়া আসে।কোঠারে দুইবেলা সদর-ফটক দিয়া অন্দরমহলে গিয়া আমরা আহার করিয়া আসিতাম। জলখাবার এবং চা কাছারিবাটীতেই আসিত। শুকুল মহারাজ, কৃষ্ণলাল এবং লেখক-এই তিনজনের মধ্যে দুইজন বরাবরই নিরামিষাশী। অপর একজন মাত্র দুইমাস হইতে নিরামিষাশী হইয়াছেন। তাঁহার এইরূপ হইবার কারণ ছিল-যেহেতু শ্রীমা আমিষ খান না, সেইহেতু তিনিও খাইবেন না; আর এই মনোভাব তিনি নিজের ভিতরেই রাখিয়াছিলেন, কাহারও নিকট ব্যক্ত করেন নাই। একদিন মধ্যাহ্নভোজনে সকলে বসিয়াছি, গোলাপ-মা আসিয়া শ্রীমার নাম করিয়া ঐ তৃতীয় ভক্তটিকে মাছ খাইতে বলিলেন। তিনি সম্মত হইলেন না। গোলাপ-মা তথাপি বলিলেন: মা যে খেতে বলে পাঠালে। তিনি তথাপি অসম্মত হইলেন। গোলাপ-মা চলিয়া গেলেন। পরক্ষণে শ্রীমা আসিয়া স্বহস্তে দুইটি বড় গলদা চিংড়ি তাঁহার পাতে দিয়া বলিয়া গেলেন: যা বলবার আছে, বিকেলে বোল-এখন খাও। অগত্যা ভক্তটি উহা খাইলেন।
স্বামী শিবপ্রদানন্দ সম্পাদিত ‘শ্রীমা সারদা ও তপোভূমি কোঠার’ থেকে