২১৭ বছর ধরে হরগৌরী রূপে পুজিত মণ্ডলবাড়ির মা
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: গঙ্গার ধারে থাকা দু’টি প্রাচীন জনপদ হল বাকিবাজার ও ইছাপুর। নবাব সিরাজদৌল্লা শিবির করেছিলেন বাকিবাজারে। পরবর্তীকালে সেটি নবাবগঞ্জ নামে পরিচিত হয়। নবাবগঞ্জের মণ্ডলবাড়ির পুজো এবার ২১৭ বছরে পড়ল। 

Advertisement

এখানে দুর্গাকে মহিষাসুরমর্দিনী রূপে নয় পুজো করা হয় হরগৌরী রূপে। মহিষাসুর থাকেন না। রথের দিন কাঠামো পুজো দিয়ে শুরু হয় প্রতিমা তৈরি। প্রতিমায় রঙের ছোঁয়া লাগার পর এই বাড়ির কোনও সদস্য মুসুর ডাল খান না। নবমী পর্যন্ত নিরামিষ। দশমীতে মাছ খাওয়া হয়। বাড়ির সদস্যরা বিসর্জন দিতে কাঁধে চাপিয়ে প্রতিমা নিয়ে যান গঙ্গায়। এখন বাড়ির ঠাকুরদালানে চলছে প্রতিমা তৈরি। দুর্গা বসে আছেন মহাদেবের কোলে। তিনি অসুর বধ করেন না। রণসংহার মূর্তি নয় দেবীর। চার ছেলেমেয়ে ও মহাদেবকে নিয়েই আসেন। বৈষ্ণব মতে পুজো হয় দুর্গার। অন্ন ভোগ দেওয়ার নিয়ম নেই হয় লুচি ভোগ। সঙ্গে থাকে সুজি, ফল, মিষ্টি প্রভৃতি। 
এই পরিবারের পূর্বপুরুষ শ্রীধর মণ্ডল হরগৌরী রূপে পুজোর স্বপ্নাদেশ পেয়ে মূর্তি বানানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। পরিবারের অন্যতম সদস্য পার্থ মণ্ডল জানান, রসময় মণ্ডল নবাবগঞ্জে ২১৬ বছর আগে ঘট দিয়ে পুজো শুরু করেন। পরবর্তীকালে তার ছেলেরা ঠাকুরদালান তৈরি করে প্রতিমা তৈরি করে পুজো করতেন। মহালয়ার আগে প্রতিমা তৈরি হয়ে যায়। প্রতিপদে ঘট বসিয়ে পূজো শুরু। বাড়ির নারায়ণ শিলা এনে পুজো হয়। পুজো বৈষ্ণব মতে। বলি দেওয়া হয় না। আমিষও থাকে না। সমস্ত আত্মীয় পুজোর সময় বাড়িতে আসেন। পরিবারের বধূ শর্মিষ্ঠা মণ্ডল বলেন, আমরা বছরভর পূজোর দিকে তাকিয়ে থাকি। আমাদের পরিবার শুধু নয় এলাকার মানুষও পুজোয় জড়িয়ে রয়েছেন। বৈষ্ণব মতে হওয়া ভিন্ন অঙ্গিকের পুজো দেখতে বহু মানুষ আসেন। আলাদা দু’টো নৌকায় প্রতিমা নিয়ে গিয়ে মাঝগঙ্গায় বিসর্জন করা হতো। এখন তা পরিবর্তন হয়েছে। একটি নৌকাতেই হয়। আমাদের পরিবারের বিসর্জনের পর অন্য প্রতিমার বিসর্জন হয়।