নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হয়েছে গত ১৩ আগস্ট। পুরো ‘বন্দে মাতরমে’র সুর বাজিয়েই। তাও এখনও কেন আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা করছেন না রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু? ইংরেজিতে যাকে বলে ‘প্রোরোগেশন।’ তবে কি ফের বিশেষ অধিবেশন বা নতুন করে কোনো অধিবেশন ডাকার পরিকল্পনা রয়েছে মোদি সরকারের? রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। সংসদ সচিবালয়ও বুঝে উঠতে পারছে না, কেন এখনও আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা হয়নি? ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধন বিল আনার কি কোনো পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার? নাকি অন্য কোনো ‘চমক’?
আগামী ২৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন বিদেশ। ফিরবেন ২সেপ্টেম্বরের পর। ফলে তার আগে কোনোভাবেই অধিবেশন হওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজন
দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যর সম্মতি। সরকারের কাছে তা নেই। তা
সত্ত্বেও কেন এই আবহ? প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার মুখ্যসচেতক জয়রাম রমেশ।
রবিবার তিনি বলেছেন, লোকসভা স্থগিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হওয়া এবং তার আনুষ্ঠনিক ঘোষণা বা প্রোরোগেশনের মধ্যে সাধারণত দুই থেকে চার দিনের ব্যবধান থাকে। এমন নজিরও রয়েছে যে অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি এবং প্রোরোগেশন একই দিনেই হয়েছে। কিন্তু এবার লোকসভা অনির্দিষ্টকালে জন্য মুলতবি হওয়ার পর দশ দিন পরেও কেন প্রোরোগেশন হল না?
এর আগে ২০১৫ সালে বাদল অধিবেশনে এই ব্যবধান ছিল ২৮ দিন। ২০২১ সালে ২০ দিন। কিন্তু সেই সময় এমন কোনও পরিকল্পনা চলছিল না। এবার এই অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণ কী? কটাক্ষের সুরে জয়রামের মন্তব্য, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখনও তাঁর বহুকলঙ্কিত দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুঁজছেন, যাতে বিশেষ অধিবেশন ডেকে এলাকা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাশ
করানো যায়? তাঁর সুরে ডেরেক ও’ব্রায়েনের মন্তব্য, সরকারের কাছে তো নাম্বারই নেই। তাই যত চেষ্টাই করুক না কেন, ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতে পারবে না মোদি সরকার। এ ব্যাপারে ডিএমকে এবং শারদ পাওয়ারের এনসিপিও বিরোধীদের সঙ্গেই আছে বলেই দাবি ডেরেকের।
এমনিতে ডিমিলিটেশন কমিশন তৈরির লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে বিরোধীদের আপত্তি নেই। কিন্তু সরকার যেভাবে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার নামে ডিমিলিটেশন করে লোকসভার আসন বাড়াতে চাইছে তা মানতে রাজি নয় বিরোধীরা। মোদি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বক্তব্য হল, বর্তমানে লোকসভার যে ৫৪৩ টি আসন রয়েছে, তার মধ্যেই কার্যকর হোক ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ। জয়রাম বলেছেন, আগামী ২৫ বছর লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো চলবে না। আসন বাড়াতে ডিলিমিটেশনের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধন করতে হলে লোকসভায় দরকার ৩৬২ ভোট। কিন্তু সরকারের কাছে লোকসভায় রয়েছে ৩২৪। রাজ্যসভায় দরকার ১৬৪। মোদি সরকারের আছে ১৫৮। সেই কারণেই গত ১৬-১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেও বিল পাশ করাতে পারেনি।