নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সার্বিকভাবে দেশে এবার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা দুর্বল রয়েছে। তবে তা কিছুটা সক্রিয় পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু সামগ্রিক কারণের জন্য রাজ্যে, বিশেষ করে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার চরিত্র জুন মাসে অন্যরকম। বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হয়ে বর্ষার বৃষ্টি চলছে দক্ষিণবঙ্গে। শক্তিশালী বজ্রমেঘ যেখানে তৈরি হচ্ছে সেখানে বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছে। তার সঙ্গে হচ্ছে অধিক মাত্রায় বজ্রপাত ও কিছুটা জোরালো হাওয়া। যেমনটা কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় হয়েছে বুধবারও। এদিন কলকাতায় আলিপুর আবহাওয়া অফিসে বিকেল পর্যন্ত জুন মাসের মধ্যে একদিনে সর্বাধিক ৮৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বজ্রগর্ভ মেঘের দৌলতে জুন মাসে ২৪ তারিখ পর্যন্ত কলকাতায় প্রায় ২৫০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে, যা গড়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। দক্ষিণবঙ্গে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় শুধু বৃষ্টির অনেকটা ঘাটতি আছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, দেশে বর্ষা দুর্বল হলে তার প্রভাব দক্ষিণবঙ্গে এরকম হয়। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি পরিমাণে জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে। কিন্তু দেশের একটা বড়ো অংশে এখনো বর্ষা সক্রিয় না-থাকার জন্য বায়ু প্রবাহের গতিপ্রকৃতি দক্ষিণবঙ্গেও অন্যরকম। বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরে (২ কিমি পর্যন্ত) জলীয় বাষ্প বেশি ঢুকছে দক্ষিণবঙ্গে। অন্যদিকে মাঝের স্তরে কম জলীয় বাষ্প থাকা রয়েছে। দুই পরস্পর ধর্মী বাতাসের সংযোগ ও ভূপৃষ্ঠ কিছুটা গরম হলেই বিভিন্ন জায়গায় শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে। বর্ষা গোটা দেশে সক্রিয় হলে বায়ুমণ্ডলের মাঝের স্তরে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প প্রবেশ করবে। তখন বর্ষার পরিচিত বৃষ্টির মেঘ তৈরি হবে। উত্তরবঙ্গে পাহাড় ও লাগোয়া এলাকায় কিন্তু এরকম কিছু হয় না। বঙ্গোপসাগর থেকে ঢোকা বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে শক্তিশালী বৃষ্টির মেঘ তৈরি করার ফলে বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয়।



