নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রকাশ্য রাস্তায় প্রস্রাব করলে ২০০ টাকা জরিমানা! ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কিন্তু অভিযোগ, প্রকাশ্য রাস্তায় মূত্রত্যাগের জন্য এক প্রবীণ নাগরিককে ৬৪০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার জঞ্জাল সাফাই এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তরফে এই জরিমানা নেওয়া হয়েছে। আর তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে এই জরিমানার নথি। স্বয়ং মন্ত্রীর ঘোষণা করা জরিমানা মূল্যের থেকে বেশি পেনাল্টি কীভাবে নিচ্ছে পুরসভা? প্রশ্ন উঠেছে নাগরিক মহলে। যদিও পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ‘কোনো বেআইনি কাজ হয়নি। পুরসভার ধার্য করা পেনাল্টি ফি-ই নেওয়া হয়েছে।’
ঘটনাটি ঘটেছে চেতলা রোডে। অভিযুক্ত বৃদ্ধের নাম গোপাল চক্রবর্তী। তাঁর নাতি অয়ন চক্রবর্তী ফেসবুকে পুরসভার সেই পেনাল্টির কাগজ পোস্ট করেছেন। সেখানে অগ্নিমিত্রা পালকে ‘ট্যাগ’ করে তিনি লিখেছেন, ‘আমার ৭৪ বছরের বৃদ্ধ দাদুর থেকে সরকারের লোক এসে ৬৪০ টাকা জরিমানা ধার্য করেছেন। যেখানে মন্ত্রী বলছেন, রাস্তায় বাথরুম করলে ২০০ টাকা এবং থুতু ফেললে ১০০ টাকা জরিমানা, সেখানে কীভাবে এই বাড়তি টাকা পুরসভা নিচ্ছে?’
এ বিষয়ে পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এক্ষেত্রে বেআইনি কোনো কাজ হয়নি। এই ধরনের জরিমানা নেওয়ার আইনি সংস্থান চার বছর আগে থেকেই কলকাতা পুরসভা এলাকায় লাগু রয়েছে। পুরসভার তরফে পেনাল্টি ফি ধার্য করা আছে। পুরদপ্তর যে নির্দেশিকা জারি করেছে, সেটা অন্যান্য পুরসভার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কলকাতা পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী পেনাল্টি নেওয়া হয়েছে। আগেও পথেঘাটে আবর্জনা ফেললে এমন পেনাল্টি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু লোকবলের অভাবে ধারাবাহিকভাবে সেই কাজ করা যায় না। তাছাড়া আগে প্রচারও সেভাবে হয়নি। তাই এখন সবটা নতুন মনে হচ্ছে কারও কারও কাছে।
যদিও পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের জারি করা অর্ডার কীভাবে কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য নয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক্ষেত্রে দপ্তর ও কলকাতা পুরসভার মধ্যে আরও সমন্বয় জরুরি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, বিভিন্ন কর্পোরেশনেও আগে থেকেই জরিমানার এই নিয়ম আছে। সেগুলি বাতিল করে তারপর নতুন অর্ডার কার্যকর করার দরকার ছিল।