নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের ৩২ লক্ষ কৃষককে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’র আওতায় নিয়ে এলে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। পালাবদলের পর রাজ্যের কৃষকদের কেন্দ্রীয় এই বিমার আওতায় নিয়ে আসতে শুরু করে নবান্ন। গ্রামে গ্রামে বিশেষ শিবির চালিয়ে রেকর্ড সময়ে কৃষকদের বিমার আওতায় আনার ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাজ্য।
এদিন সমাজমাধ্যমে রাজ্যের এই সাফল্যের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘২০১৯-২০ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা প্রকল্পে কৃষকদের নথিভুক্তিকরণ বন্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা দীর্ঘদিন ন্যায্য সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বিজেপির সরকার আসার পর কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় এই শস্য বিমার সুবিধা চালু করা হয়েছে। নতুন সরকারের অধীনে প্রথম দফার নথিভুক্তিকরণ শুরু হয়েছে। প্রথম দফাতেই কৃষকদের অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে।’
রাজ্যের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩২ লক্ষ কৃষক এই বিমার আওতায় এসেছেন। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতেও দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে। বন্যা কবলিত জেলাগুলিতে কৃষকদের নথিভুক্তিকরণের চিত্র অত্যন্ত ইতিবাচক বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নথিভুক্ত হয়েছে ৭.২৩ লক্ষ কৃষক। পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪.৭৩ লক্ষ, হুগলিতে ১.৬৮ লক্ষ এবং ঝাড়গ্রামে ৪২ হাজার কৃষক বিমার আওতায় এসেছেন। প্রসঙ্গত, পূর্বতন সরকার কেন্দ্রের এই বিমার বদলে রাজ্যের নিজস্ব ফসল বিমা চালু রেখেছিল। তাতে বিমার প্রিমিয়াম বাবদ কোনো টাকা দিতে হত না কৃষকদের। প্রিমিয়ামের সম্পূর্ণ খরচই বহন করত রাজ্য সরকার। তবে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’য় প্রিমিয়ামের আংশিক খরচ বহন করার কথা কৃষকের। তবে এক্ষেত্রে কৃষকের অংশের প্রিমিয়ামের অধিকাংশ টাকা মিটিয়ে দিচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকার। ১ হেক্টর (২.৫০ একর) পর্যন্ত জমির জন্য কৃষকদের দিতে হচ্ছে মাত্র ১ টাকার প্রতীকী (টোকেন) অর্থ। আর ১ থেকে ২ হেক্টর জমির জন্য একর প্রতি ১০০ টাকা।
অন্যদিকে, আগস্ট মাসের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ পৌঁছে দিতে বিমা সংস্থাগুলিকে অবিলম্বে ‘মিড-সিজন অ্যাডভার্সিটি’ মূল্যায়ন চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলির মাধ্যমে ঋণগ্রহীতা কৃষকদের নথিভুক্ত করার শেষ সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।