


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদল হতেই, সরকারি অনুদানে চলা লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগারগুলির পরিচালন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গ্রন্থাগার দপ্তরের প্রধান সচিবের নির্দেশিকার পর ডিরেক্টর অব লাইব্রেরি এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। রাজ্যে সরকারি আর্থিক অনুদানে চলা লাইব্রেরির সংখ্যা প্রায় ২,৪০০। রাজ্য, জেলা, টাউন ও গ্রামীণ এই চার পর্যায়ে লাইব্রেরিগুলি চলে। প্রতি লাইব্রেরিতে একটি পরিচালন কমিটি থাকে। এই কমিটির বেশিরভাগ সদস্য একসময় লাইব্রেরির সদস্যদের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে আসতেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বেঙ্গল লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশনের একজন করে প্রতিনিধি থাকতেন। লাইব্রেরিয়ানও কমিটির সদস্য হতেন। কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে থেকে সভাপতি, সম্পাদক ও অন্য পদে কারা আসবেন তা ঠিক করতেন।
তবে সাধারণের গ্রন্থাগার কর্মী কল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মনোজ চক্রবর্তীর অভিযোগ, ২০১১ সালের পর লাইব্রেরি কমিটিতে মনোনীত ব্যক্তিদের বসিয়ে দেওয়া হয় শাসক দলের মদতে। সম্পাদক করা হত লাইব্রেরিয়ানকে। কোনো ভোট হত না। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লাইব্রেরির ভালো চান এমন ব্যক্তিদের নতুন কমিটিতে আনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তাছাড়া অধিকাংশ লাইব্রেরির হাল খুব খারাপ। কর্মী সংখ্যা এতই কম যে নিয়মিত গ্রন্থাগার খোলা সম্ভব হয় না অধিকাংশ জায়গায়। অনেক লাইব্রেরি বাংলা সহায়তা কেন্দ্র হিসাবে কাজ করছে। তাই পাঠকদের সেখানে অসুবিধা হচ্ছে। অবিলম্বে শূন্যপদগুলিতে নিয়োগ এবং ভালো মানের ও প্রয়োজনীয় বই কেনা হলে লাইব্রেরিগুলি ফের পাঠকের আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন।