Bartaman Logo
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিভিকের পরিচিতের গাড়ি চেপেই পালায় মূল ষড়যন্ত্রী, ধৃত সার্জেন্টকে জেরা ব্যবসায়ী খুনে নয়া তথ্য

ঝাড়খণ্ডে হোটেল ব্যবসায়ী নিখার সবলোক খুনে জড়িত মূল ষড়যন্ত্রকারী অশোক সিং ওরফে রাঘবকে কলকাতা ছাড়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছিল বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত ও সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাস।

সিভিকের পরিচিতের গাড়ি চেপেই পালায় মূল ষড়যন্ত্রী, ধৃত সার্জেন্টকে জেরা  ব্যবসায়ী খুনে নয়া তথ্য
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঝাড়খণ্ডে হোটেল ব্যবসায়ী নিখার সবলোক খুনে জড়িত  মূল ষড়যন্ত্রকারী অশোক সিং ওরফে রাঘবকে কলকাতা ছাড়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছিল বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত ও সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাস। এমনকি অভিযুক্ত যাতে কোনও সমস্যায় না পড়ে, সেজন্য টোলে থাকা ভিভিআইপি লেন  দিয়ে গাড়ি পার করানোর ব্যবস্থা করে অভিযুক্ত সার্জেন্ট। ব্যবসায়ী খুনের তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য হাতে এসেছে  ঝাড়খণ্ড পুলিশের। যে গাড়িতে করে কলকাতা ছেড়েছিল অশোক সেটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেটি ওই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের এক পরিচিতের গাড়ি বলে খবর। একইসঙ্গে মূল ষড়যন্ত্রকারী অশোকের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের অন্য কোনও কর্মীর যোগাযোগ ছিল কি না, সেটাও জানার চেষ্টা চলছে।

Advertisement

চলতি বছরের ২৪ আগস্ট দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হন জামশেদপুরের চান্ডিল থানা এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী নিখার সাবলোক। খুব কাছ থেকে পরপর দশটি গুলি করা হয় তাঁকে। ঘটনার তদন্তে এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে খুনের তদন্তে গঠিত সিট। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় খুনের মূল পরিকল্পনাকারী হল, অশোক সিং ওরফে রাঘব। অশোককে জিজ্ঞাসাবাদ ও ফোনের সূত্র ধরে বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট ও সিভিকের নাম উঠে আসে। মূল ষড়যন্ত্রকারী তদন্তকারীদের জানিয়েছে, খুনের দিন ২৪ আগস্ট সে কলকাতা পৌঁছয় বিহারের একটি গাড়ি নিয়ে। সে এই খুনে জড়িত এটা যাতে প্রমাণ না হয়, সেজন্য জামশেদপুর থেকে দূরে চলে এসেছিল। নিয়মিত যাতায়াত থাকায়, কলকাতাকে বেছে নিয়েছিল। এখানে আসার পর সিভিক টুইঙ্কলের বাড়িতে প্রথমে ওঠে। পরে সিভিকই তাকে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। খুনের দু’দিন পর সে  আবার ফিরে যায় জামশেদপুরে। কলকাতা ছাড়ার জন্য সে গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে বলে ওই মহিলা সিভিককে। সেইমতো অভিযুক্ত টুইঙ্কল  তাঁর পরিচিতকে বলে একটি গাড়ির দরকার। ঝাড়খণ্ড ছেড়ে দিয়ে গাড়িটি চলে আসবে। সার্জেন্টও ফোন করে গাড়ির মালিককে। তিনি বলেন, ভালো গাড়ি যেন দেওয়া হয়।  এরজন্য দশ হাজার টাকা ভাড়া চাওয়া হয়। অশোক রাজি হলে সেই গাড়ি তাকে ছেড়ে আসে জামশেদপুরে। গাড়ি ভাড়া করে দেওয়ার বিষয়টি জানত অভিযুক্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট। তিনি গাড়িটিকে সুরক্ষা দিয়ে কলকাতা ছাড়ার ব্যবস্থা করে দেন বলে অভিযোগ। টোল প্লাজার ভিভিআইপি লেন পার করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয় বলে ঝাড়খণ্ডের তদন্তকারীরা জেনেছেন। জামশেদপুরে পৌঁছে অশোক ফোন করে ওই ট্রাফিক সার্জেন্ট ও সিভিককে। গাড়ি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিনিময়ে সার্জেন্ট ও সিভিক কোনও টাকা নিয়েছিলেন কি না, সেটা অশোকের ওয়ালেট ঘেঁটে জানার চেষ্টা হচ্ছে। পাশাপাশি  খুনের ঘটনায় একজন অভিযুক্ততে ধরিয়ে না দিয়ে সার্জেন্ট ও সিভিক যেভাবে পালাতে সাহায্য করেছেন, তাতে তাঁদের ভূমিকা রীতিমতো প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ