নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালীপুজোর আলোর বাজার কাঁপাচ্ছে লাড্ডু, রসমালাই, চা, সিঙারা আরও কত কী! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। বড়বাজারে প্রদীপের দোকানিরা হাঁক পেড়ে বলছেন, ‘পুরো নাস্তা ১২০ টাকা।’ এমনকি, ক্রেতারা এসেও দোকানিদের জিজ্ঞাসা করছেন, লাড্ডু কত করে? দু’টো সিঙারার সঙ্গে এক কাপ চা কত? এই দরাদরি বা আলাপচারিতা কোনো মিষ্টির দোকানে নয়। তাহলে হচ্ছে কোথায়?
দোকানে গিয়ে দেখা গেল অন্য চিত্র। সত্যিই অবিকল লাড্ডু, রসমালাই, কাপে করে চা বিক্রি হচ্ছে। প্লাস্টিকে মোড়া বাক্সের ভিতরে রাখা কমলা রঙের ঘিয়ের লাড্ডু। কিংবা ছোটো বাটিতে রাখা দুধের উপর ভাসছে রসমালাই। এক লহমায় দেখে মনে হচ্ছে বাক্সে করে মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বড়বাজারের দোকানে হঠাত্ বাক্স ভরতি মিষ্টি বিক্রি হতে যাবেই বা কেন? পাশের রাস্তাতেই তো বড়ো বড়ো দোকানে দীপাবলির উপহার হিসাবে মিষ্টি প্যাকিং হচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখা গেল, বড়বাজারের দোকানে বাক্স ভরতি মিষ্টিগুলি পুরোটাই মোমের। সেই সব মিষ্টির উপর আবার সলতে দেওয়া রয়েছে। দোকানিরা বলছেন, এই বছর এটাই ‘হট কেকের’ মতো বিক্রি হচ্ছে। এই ধরনের প্রদীপের দাম ভিন্ন রকমের। সেখানে কী নেই? এক বাটি রসমালাইয়ের উপর একখানা সলতে। আবার লাড্ডু, সিঙারা, জিলিপি, লেডিক্যানি সবই আছে। অনেক দোকানে আবার তিনটি লাড্ডু কিংবা তিন বাটি রসমালাইয়ের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কোনো দোকানে দেখা গেল, প্লেটের উপর সাজিয়ে রাখা হয়েছে মিষ্টি। আবার কাচের গ্লাসে চা। সেই চায়ের উপর বিস্কুটও রয়েছে। তার উপর সলতে পাকানো। রয়েছে মোমের গুজিয়াও।
এদিন বড়বাজারে প্রদীপ কিনতে আসা এক ক্রেতা বলছিলেন, ‘একটা সময় তো মাটির প্রদীপ ছিল। তারপর নানা ধরনের সুগন্ধী মোমবাতি এল। কিন্তু এবার দেখছি, মিষ্টি-মোমবাতি। দেখতে বেশ ভালোই লাগছে। এমনভাবে জিনিসগুলি তৈরি করা হয়েছে, এক লহমায় দেখে বোঝার উপায় নেই যে, সেগুলি মোমের।’ এখন বাজারে নানা ধরনের প্রদীপের দেখা মেলে। চিরাচরিত মাটির প্রদীপ যেমন আছে, তেমনই মোমের তৈরি ও মাটি দিয়ে তৈরি নানা ডিজাইনের প্রদীপও রয়েছে। এই সব কিছুর মধ্যেই মিষ্টির আদলে তৈরি প্রদীপই এবার বাজার কাঁপাচ্ছে। এক ক্রেতার কথায়, ভাইফোঁটার সময় এই প্রদীপের চাহিদা আরও বাড়বে। সেই আশাতেই আরও কিনে নিয়ে যাচ্ছি বিক্রির জন্য। বাচ্চাদের মধ্যে এই প্রদীপের চাহিদা আরও বাড়বে। নিজস্ব চিত্র



