সংবাদদাতা, কান্দি: রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ে খড়গ্রাম বিধানসভা বিজেপির দখলে গিয়েছে। কিন্ত ভোটের পরের ঘটনাবলী যেন সিপিএমের পালে হাওয়া তুলেছে। তৃণমূল ভেঙে যাওয়ার পর সেই দলের অনেক কর্মীই এখন দিশেহারা। বিজেপি দলে নিচ্ছে না। আর এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু তৃণমূল কর্মীর পক্ষে বিজেপিতে যাওয়া সম্ভবও নয়। কংগ্রেসের তেমন কর্মসূচি নেই। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে এখন সিপিএমের শরণাপন্ন এতদিনের ডানপন্থী রাজনীতি করা বহু মানুষ। তাই ভোটে হারলেও ১৫বছর পর ফের পুরনো মেজাজে এই কর্মীদের মার্কস, লেনিনের মতাদর্শ বোঝাতে ‘ক্লাস’ নিচ্ছেন সিপিএম নেতারা।
এবার বিধানসভা নির্বাচনে খড়গ্রামে সিপিএমের প্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি সাহা ৪১হাজার ৭৭০টি ভোট পেয়েছিলেন। যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ২০.৫১। সিপিএম নেতাদের দাবি, এই ফল তাঁদের নতুন করে অক্সিজেন দিয়েছে। ফলপ্রকাশের পর বহু ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মীও বামপন্থার ক্লাস নিচ্ছেন। রামে চলে যাওয়া ভোটও ফিরতে চলেছে বলে তাঁরা দাবি করেন। খড়গ্রামে বিজেপি প্রার্থী মিতালি মাল জয়ী হওয়ার পর সিপিএম বাদে অন্য কোনো দলের কর্মসূচি চোখে পড়েনি। তৃণমূল সহ অন্য দলও একেবারে চুপচাপ হয়ে পড়েছে। ফলে সেসব দলের কর্মীরা মাথার উপর রাজনৈতিক ছাতা পেতে ফের বামেদের উপর ভরসা করতে শুরু করেছেন। বিশেষত, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু কর্মী, এমনকী বিভিন্ন দলের নীচুতলার নেতারাও সিপিএমে আশ্রয় পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস মার্জিত অবশ্য বলেন, কর্মসূচি একেবারে স্থগিত করা হয়নি। ঘরোয়াভাবে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই আলোচনা হয়ে থাকে। খড়গ্রাম ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, ভোটের পর আমি কিছুদিনের জন্য বিশ্রাম নিয়েছি। জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে একটি বৈঠক করা হবে। তারপর লাগাতার কর্মসূচিতে নামা হবে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে ভোটে হারের পরও সিপিএম কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। দলের খড়গ্রাম এরিয়া কমিটির সম্পাদক ভরতকুমার ঘোষ বলেন, এলাকার অনেক মানুষ আমাদের দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। অনেকে আমাদের নেতাদের ফোন করে গ্রামে আসতে বলছেন। কখনো পথসভা, কখনো ঘরোয়া বৈঠক, আবার কখনো বাড়ি বাড়ি ঘোরা চলছে। সিপিএমের সমস্ত শাখা সংগঠন আগের মতো বামপন্থার ‘ক্লাস’ চালু করেছে। কখনও কারো বাড়ির আঙিনায়, আবার কখনো স্থানীয় কার্যালয়ে মার্কস, লেনিনের মতাদর্শ তুলে ধরা হচ্ছে। সম্প্রতি পারুলিয়া গ্রামের একটি বৈঠকে তৃণমূল থেকে আসা চারজন তেমনই ক্লাসে হাজির ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সামশের শেখ বলেন, আমরা তৃণমূলকে হারাতে গিয়ে বিজেপিকে জিতিয়ে দিয়েছি। এই ভুল শোধরাতে এখন বামপন্থাই ভরসা।