Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

মুকুলের ঝড়ে ফের হার নাইটদের,

একটা করে উইকেট পড়ছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের, আর শব্দব্রহ্ম তৈরি হচ্ছে গ্যালারি জুড়ে। সঙ্গে পত পত করে উড়ছে সোনালি-বেগুনি পতাকা।

মুকুলের ঝড়ে ফের হার নাইটদের,
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

সুকান্ত বেরা, কলকাতা: একটা করে উইকেট পড়ছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের, আর শব্দব্রহ্ম তৈরি হচ্ছে গ্যালারি জুড়ে। সঙ্গে পত পত করে উড়ছে সোনালি-বেগুনি পতাকা। ছাব্বিশের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রথম জয়ের প্রত্যাশায় তখন চেনা ছন্দে ফিরছে ইডেন। কিন্তু কে জানত, এভাবে নাইটদের ‘ভ্যানিশ’ করে দেবে মুকুল। সোনার কেল্লার মুকুলের মতোই রাজস্থানের ২১ বছর বয়সিও স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন। ছোটবেলা থেকেই লক্ষ্য ছিল বড় ক্রিকেটার হওয়ার। সেটা সফল হল কেকেআর বধে। ২৭ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থেকে পাশা উলটে দিলেন তিনি। নাটকীয় ম্যাচে এলএসজি’কে এনে দিলেন ৩ উইকেটে জয় (১৮২-৭)। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ২টি চার ও ৭টি ছক্কা। ঘরের মাঠে ফের হেরে প্লে-অফে ওঠার লড়াইয়ে আরও পিছিয়ে পড়ল শাহরুখ খানের দল। বিখ্যাত ক্রিকেট লেখিয়ে নেভিল কাডার্স বলেছিলেন, স্কোরবোর্ড একটা গাধা। আজও তাঁর উক্তি একইরকম প্রাসঙ্গিক। ইনিংসের বিরতিতে ইডেনের স্কোরবোর্ড দেখাচ্ছিল— কলকাতা নাইট রাইডার্স ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮১। সত্যি কী তাই! না, একেবারেই নয়। আসলে এই রানটা তুলতে নাইটদের লেগেছে ১২.৫ ওভার। কারণ, বাকিটা ডট বল। যার সিংহভাগ দায় ক্যামেরন গ্রিন ও রভম্যান পাওয়েলের। আর কতদিন গ্রিনদের বয়ে বেড়াবেন কিং খান! 

Advertisement

টস হেরে ব্যাট করে কেকেআর তোলে ৪ উইকেটে ১৮১। শুরুতেই অ্যালেনের উইকেট হারায় সোনালি-বেগুনি জার্সিধারীরা। সময়ের দাবি মেনে এদিন প্ল্যান-বি প্রয়োগ করে কেকেআর। আর সেটাই নাইট বাহিনীকে লড়াইয়ের জমি তৈরি করে দেয়। গত তিনটি ম্যাচেই তিন নম্বরে নামানো হয়েছিল ক্যামেরন গ্রিনকে। আস্থার মর্যাদা দিতে পারেননি অজি তারকা। তাই এদিন তিনে পাঠানো হয় ফর্মে থাকা অঙ্গকৃশ রঘুবংশীকে। ক্যাপ্টেন রাহানের সঙ্গে জুটিতে তুললেন ৮৪ রান। মনে হচ্ছিল, দু’জনেই হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকাবেন।  কিন্তু রাহানে ৪১ রানে আউট হন। রাঠির বলে তাঁর দুরন্ত ক্যাচ ধরেন সামি। উইকেট না পেলেও ভালো বল করলেন তিনি। পরের ওভারেই ফেরেন রঘুবংশী (৪৫)। ব্যর্থ রিঙ্কুও (৪)। পর পর তিন উইকেটের পতনে ব্যাকফুটে চলে যায় নাইট ব্রিগেড। তবে যে মঞ্চটা রাহানেরা তৈরি করে দিয়েছিলেন, তাতে নায়ক হয়ে ওঠার সুযোগ ছিল গ্রিনের সামনে। কিন্তু ব্যাটে-বলে ঠিকভাবে সংযোগই ঘটাতে পারছিলেন না তিনি। একটা সময় তাঁর রান ছিল ১৬ বলে ১৪। শেষ পর্যন্ত গ্রিন ৩২ ও পাওয়েল ৩৯ করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টসের দুই ওপেনার আইডেন মার্করাম ও মিচেল মার্শ শুরুটা ভালোই করেছিলেন। কিন্তু পঞ্চম ওভারে ইমপ্যাক্ট সাব বৈভব অরোরার জোড়া সাফল্য লড়াইয়ে ফেরায় নাইট রাইডার্সকে। প্রথমে মার্করাম ২২ রানে বাউন্ডারি লাইনে পাওয়েলের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর কট বিহাইন্ড মার্শ (১৫)। পাওয়ার প্লে’তে লখনউয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৫৬-২। তবে আশা ছিল ঋষভ পন্থ আবারও হয়ে উঠবেন লখনউয়ের ত্রাতা। কিন্তু তা হল না। গ্রিন প্রথমবার বল করতে এসেই দ্বিতীয় ডেলিভারিতে তুলে নেন ঋষভের (১০) উইকেট। ব্যর্থ পুরানও (১৩)। তবে চারে নেমে দারুণ লড়লেন বাদোনি (৫৪)। কিন্তু তিনি আউট হতেই কার্যত ভেন্টিলেশনে ঢুকে পড়ে লখনউ। তার পরই শুরু মুকুল ম্যাজিক। চাপের মুখে প্রত্যাঘাতে জয়ের পথ খুললেন নবাগত তরুণ। তাঁর ব্যাটিং তাণ্ডবের সামনে বড়ই অসহায় দেখাল নাইট বোলারদের। শেষ ১২ বলে দরকার ছিল ৩০। ১৯তম ওভারে গ্রিন দিলেন ১৬। অন্তিম ওভারে হতাশ করলেন বৈভবও। শেষ বলে বাই রানের সুবাদে রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নেয় লখনউ।

সম্পর্কিত সংবাদ