কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লুএমও) সম্প্রতি জানিয়েছে, এবারে ‘এল নিনো’ যেভাবে শক্তি বৃদ্ধি করছে তাতে তীব্রতার নিরিখে সর্বকালীন রেকর্ড হতে চলেছে। এই পরিস্থিতি আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকতে পারে। এমন আশঙ্কারও কথা বলেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংস্থাটি। এর জেরে ভারতসহ কিছু দেশে বৃষ্টিপাত কম হবে ও তাপমাত্রা বাড়বে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক আবহাওয়াবিদদের।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট বলছে, ১৯৫১ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত একবারই তীব্র এল নিনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সেটি ১৯৯৭ সালে। এবার যেমন এল নিনোর মাত্রা ইতিমধ্যে ২ অতিক্রম করেছে। সেবারও এটাই হয়েছিল বর্ষাকালে। কিন্তু সে-বছর দেশে কিন্তু সার্বিকভাবে বর্ষকালীন বৃষ্টির কোনো ঘাটতি হয়নি। বরং দীর্ঘকালীন গড়ের তুলনায় ০.২ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছিল। বর্ষার চারমাসের মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরে গড়ের তুলনায় ১০.২ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল। সেখানে চলতি বর্ষাকালে জুন মাস থেকে এখনো পর্যন্ত দেশে সার্বিকভাবে দীর্ঘকালীন গড়ের থেকে ১৫ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। এই শতাব্দীতে একমাত্র ২০০২ সালে বর্ষাকালে দুর্বল এল নিনো থাকাকালীন এর থেকে কম বৃষ্টি হয়েছিল দেশে (২০.৯ শতাংশ কম)। ২০১৫ সালে মাঝারি মাত্রার এল নিনো বছরে দেশে ১২.৭ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়।
১৯৯৭ সালে ভারত মহাসাগরের ‘ডাইপোল’ পরিস্থিতি ইতিবাচক থাকার জন্য এল নিনো প্রভাবকে প্রতিহত করেছিল বলে আবহাওয়াবিদদের অনেকে মনে করেন। আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, ওই বছরে বর্ষার চারমাসে ‘ডাইপোল ‘পজিটিভ’ ছিল। এবার সেখানে ডাইপোল এখনো ‘নিউট্রাল’ অবস্থায় আছে। তবে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে ডাইপোল পরিস্থিতি পজিটিভ হওয়ার দিকে এগোবে। প্রশান্ত মহাসাগরে পশ্চিম ও মধ্য উপকূলে জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি হলে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার ভারত মহাসাগরের দুই প্রান্তের জলের তাপমাত্রার পার্থক্য ‘ডাইপোল’ দিয়ে সূচিত হয়।
আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯০১ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত দেশে বর্ষাকালীন বৃষ্টি সবচেয়ে কম হয়েছিল ১৯৭২ সালে। সেবার বর্ষাকালে গড়ের থেকে ২২.৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়। সেবার কিন্তু মৃদু এল নিনো থাকলেও ডাইপোল বর্ষাকাল জুড়ে পজিটিভ ছিল। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাসের কথায়, বর্ষার উপর এই দুটির প্রভাব থাকলেও ‘ওয়ান টু ওয়ান’ হিসাবে সবকিছু হয় না। বর্ষাকালীন বৃষ্টি একটা জটিল প্রক্রিয়া। ২০০৯ সালে ১৮ শতাংশ এবং ১৯৭৯ সালে ১৬ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেও সেবার এল নিনো ছিল না। ডাইপোল অবশ্য দুবারই বর্ষার কয়েকটি মাসে নেগেটিভ ছিল।