Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বন্ধ চা বাগান নিয়ে বার্তা নেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, কটাক্ষ তৃণমূলের

উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা বাগান নিয়ে একটিও বাক্য ব্যয় করলেন না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একইসঙ্গে পার্মানেন্ট পলিটিক্যাল সলিউশান (পিপিএস) বা গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কোনও রা করেননি।

বন্ধ চা বাগান নিয়ে বার্তা নেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, কটাক্ষ তৃণমূলের
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, বাগডোগরা: উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা বাগান নিয়ে একটিও বাক্য ব্যয় করলেন না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একইসঙ্গে পার্মানেন্ট পলিটিক্যাল সলিউশান (পিপিএস) বা গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কোনও রা করেননি। শনিবার বাগডোগরায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভার পর এনিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন সভাস্থল ফেরত কিছু বিজেপি কর্মী। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসেও এনিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘ভাঁওতাবাজ’ বলে কটাক্ষ করেছে। এদিকে, এদিনের সভায় ভুরিভোজে ছিল এলাহি আয়োজন। অতিথিদের মধ্যে কারও জন্য আমিষ, আবার কারও জন্য ছিল নিরামিষ আয়োজন।

Advertisement

এদিন বাগডোগরার গোঁসাইপুরে দলের শিলিগুড়ি, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিং পাহাড় এই পাঁচটি সাংগঠনিক জেলা কমিটির কার্যকর্তাদের নিয়ে সম্মেলন করে বিজেপি। সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার তৃণমূলের পতনের কথা বলেছেন। গোরু ও কয়লা পাচার, সিন্ডিকেটরাজ, অনুপ্রবেশ, সীমান্ত, দুনীর্তি ইস্যুতে সুর চড়ান। আর উত্তরবঙ্গের চা বাগানের শ্রমিকদের অসমের মতো সুবিধা প্রদানের কথা বলেন। কিন্তু বন্ধ চা বাগান অধিগ্রহণ, কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকা চা বাগান সুষ্ঠুমতো পরিচালনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাক্য খরচ করেননি।

সভা ফেরত জলপাইগুড়ির কয়েকজন শ্রমিক বলেন, চা বাগানের উন্নয়ন নিয়ে তেমন কিছু বললেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইএনটিটিইউসির দার্জিলিং জেলা সভাপতি (সমতল) নির্জল দে বলেন, ২০২১-’২২ অর্থবর্ষে এক হাজার কোটি টাকা চা বাগানের উন্নয়নে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। তা এখনও অমিল। বন্ধ ছ’টি বাগান অধিগ্রহণের কথা আগে বললেও তা এখনও হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের নিজস্ব চারটি চা বাগানের শ্রমিকদের পিএফ অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা জমা পড়ছে না। পুজোর বোনাস হয়নি। মজুরিও অনিয়মিত। সেসব বিষয়ে কিছু না বলে ভাঁওতা দিতে অসমের প্রসঙ্গ তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে বাংলায় চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ২৫০ টাকা। কিন্তু অসমে মজুরি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা মধ্যে। কাজেই এসব কথায় এখানে চিঁড়ে ভিজবে না। কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বলেন, পিপিএস নিয়েও রা করেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে, এদিনের সভায় দলের পাঁচটি সাংগঠনিক জেলা কমিটি থেকে প্রায় ছ’হাজার কার্যকর্তা হাজির ছিলেন। সেই তালিকায় দলের জেলা সভাপতি, মণ্ডল, শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ, পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধি, এমএলএ ও এমপি’রা এসেছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও সভায় দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বক্তব্য রাখেন। সকাল ১১টা থেকেই মধ্যাহ্ন ভোজের আসর শুরু হয়। কমলা ও সবুজ দু’ধরনের টোকেন দিয়ে কার্যকর্তাদের মধ্যে খাবার বিলি করা হয়। মেনুতে ছিল ভাত, মুগ ডাল, আচার, পাপড়, নবরত্ন সবজি ও রসগোল্লা। এরবাইরে কিছু অতিথিদের মধ্যে স্পেশাল নিরামিষ ও আমিষের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ