


লন্ডন: প্রথম ইনিংসে খাতাই খোলেননি। কে ভেবেছিল প্রবল চাপের মুখে সেই আইডেন মার্করামই উপহার দেবেন ম্যাচ জেতানো ১৩৬ রানের ইনিংস!
লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছিল মাত্র ১৩৮ রানে। ৭৪ রানের লিড পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ ইনিংসে ২৮২ রানের টার্গেট সেজন্যই মনে হচ্ছিল পাহাড়প্রমাণ। মার্করামের ব্যাট অবশ্য সেটাকেই সহজ করে তুলল। অজি ঔদ্ধত্যকে চুরমার করার পর আবেগের জোয়ারে ভাসলেন ৩০ বছর বয়সি ওপেনার। জানালেন, ‘কেরিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রান এটাই। বিশ্বাসই হচ্ছে না, আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আরও অদ্ভুত লাগছে এটা ভেবে যে, শূন্য করার পরের ইনিংসেই এল সেঞ্চুরি।’ ম্যাচ জিতিয়ে ফেরাই ছিল লক্ষ্য। লক্ষ্যের ৬ রান দূরে আউট হয়ে ফেরার সময় শরীরটাকে কোনও রকমে টেনে নিয়ে আসেন ড্রেসিং-রুমে। সেখানে তখন হাততালি দিচ্ছেন সতীর্থরা। ম্যাচের সেরা মার্করামের গলায় অবশ্য দিনের শেষে তৃপ্তি, ‘লর্ডসে প্রত্যেক টেস্ট ক্রিকেটারই খেলতে চায়। এখানে ফাইনালে নামতে পারা সে জন্যই স্পেশ্যাল। এই দিনটা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রচুর সমর্থক এসেছিলেন মাঠে, যা আমাদের উদ্দীপ্ত করেছে।’
ছয় ঘণ্টা ২৩ মিনিট ক্রিজে ছিলেন মার্করাম। সেই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘চাপের মুখে সেরাটা তুলে ধরা জরুরি ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ দুর্দান্ত। তাই সতর্কতার সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি। স্কোরবোর্ড সচল রাখার দিকেও নজর রেখেছিলাম।’
উচ্ছ্বাসের ঢেউ
তেম্বা বাভুমা: আমাদের যোগ্যতা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। এই জয় তারই জবাব। টিম গেম ও আত্মবিশ্বাসের সুফল মিলল।
এবি ডি’ভিলিয়ার্স: গোটা দলকে অভিনন্দন। মার্করামের অসাধারণ সেঞ্চুরি মন ভরিয়ে দিল। অধিনায়ক বাভুমাকেও ধন্যবাদ। গোটা দেশকে গর্বিত করেছে ওরা।
শচীন তেন্ডুলকর: সাব্বাস প্রোটিয়া ব্রিগেড। চাপের মুখে দুরন্ত ব্যাটিং করেছে মার্করাম ও বাভুমা। দারুণ ম্যাচ উপভোগ করলাম। এটাই টেস্ট ক্রিকেটের মজা।
হার্শেল গিবস: এমন দিন বারবার আসে না। উৎসব উপভোগ কর।
কুমার সাঙ্গাকারা: দক্ষিণ আফ্রিকা কতটা শক্তিশালী তা বাভুমারা বুঝিয়ে দিল।