Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুনানি শেষের পথে, মুর্শিদাবাদে ডাকা হয়েছিল ১৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারকে

লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির কারণ দেখিয়ে মুর্শিদাবাদের মোট ১৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল।

শুনানি শেষের পথে, মুর্শিদাবাদে ডাকা হয়েছিল ১৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারকে
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির কারণ দেখিয়ে মুর্শিদাবাদের মোট ১৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ৯৯.৮ শতাংশ শুনানি শেষ করেছে জেলা প্রশাসন। বাকি থাকা ভোটারদের শুনানি একদিনের মধ্যেই শেষ হবে। যদিও ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে শুনানি। তার আগেই কাজ শেষ করে ফেলেছে জেলার নির্বাচনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা আধিকারিকরা। ফলে বিপুল সংখ্যক ভোটার থাকা এই জেলায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে প্রশাসনের আধিকারিকরা। শুনানি শেষ হওয়ার পর আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) দিননারায়ণ ঘোষ বলেন, ১৮ লক্ষ ৮৫ হাজার মানুষকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। তবে, আমরা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই এসআইআরের শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করতে পারব। সোমবার পর্যন্ত ৯৯.৮ শতাংশ মানুষের শুনানি শেষ করা হয়েছিল। এরপর মঙ্গলবারও প্রতিটি বিডিও অফিস এবং শুনানির অস্থায়ী ক্যাম্পে প্রচুর মানুষ হাজিরা দিয়েছিলেন। তাঁদের নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখেছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। ফলে, এদিনই শুনানির ১০০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে পরিসংখ্যান।

Advertisement

তবে, জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা স্বস্তিতে থাকলেও, সাধারণ মানুষ কিন্তু হিয়ারিংয়ের হয়রানি নিয়ে সরব হয়েছেন। এদিকে, এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই মানুষের পাশে আছে শাসক দল। প্রথমে কেন্দ্রের নির্দেশে কমিশনের এই এসআইআরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিল তৃণমূল। তারপরেও কমিশন জোর জবরদস্তি যখন সাধারণ মানুষের উপর এটা চাপিয়ে দেয়, তখন মানুষের হয়রানি বেড়েছে। এমনকি, শুনানি কেন্দ্রের বাইরে শাসক দলের তরফ থেকে শিবির করে সাধারণ ভোটারের নথিপত্র যাচাইয়ের সাহায্য করা হয়েছে। এই ময়দানে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না অন্য রাজনৈতিক দলকে। এটাই আগামী নির্বাচনে মানুষের পাশে থাকার জন্য শাসক দলের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বিধায়ক অপূর্ব সরকার(ডেভিড) বলেন, এসআইআর নিয়ে এই জেলার সাড়ে ১৮ লক্ষের বেশি মানুষ আজ হয়রানির শিকার হচ্ছে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির কারণ দেখিয়ে ফের এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে নিজের বিধানসভা এলাকায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। একের পর এক সাধারণ মানুষ আতঙ্কে মারা গিয়েছেন। বিএলওরা কাজের চাপ সহ্য না করতে পেরে মারা যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি মৃত্যুর দায় নিতে হবে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে। মানুষকে হয়রানি করে আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়ে বিজেপির এই কমিশন ভেবেছে বাংলা দখল করবে। এর জবাব মানুষই দেবে।

বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রথম থেকেই সঠিকভাবে নিয়ম মেনে কাজ করছে। তারা ধাপে ধাপে এসআইআর নির্ভুলভাবে করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে বহু ভুয়ো ভোটার বাদ যাবে। এই ভুয়ো ভোটার আসলে তৃণমূলের ভোটব্যাংক।

তাই এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই তৃণমূল বিরোধিতা শুরু করেছে। এখন তো শুনানি প্রায় শেষ করেছে কমিশন। লিস্ট বের হলেই বোঝা যাবে কত ভুয়ো ভোটার ছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ