Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এক দশকের বেশি থমকে স্বাধীনতার সাক্ষ্যবহন করা সিউড়ির বড়ো ঘড়ি

দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সাক্ষী সিউড়ির বড় ঘড়ি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি বন্ধ হয়ে রয়েছে। অনেকে বলছেন, ‘আমাদের সময় গিয়েছে থেমে।’

এক দশকের বেশি থমকে স্বাধীনতার সাক্ষ্যবহন করা সিউড়ির বড়ো ঘড়ি
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন মুখোপাধ্যায়, সিউড়ি: দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সাক্ষী সিউড়ির বড় ঘড়ি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি বন্ধ হয়ে রয়েছে। অনেকে বলছেন, ‘আমাদের সময় গিয়েছে থেমে।’ শহরবাসীর আক্ষেপ, প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই ঐতিহ্যের ইতিহাসই ভুলতে বসছে শহরের বর্তমান প্রজন্ম। দ্রুত ঘড়িটি চালুর দাবি উঠেছে।

Advertisement

জেলার প্রাচীন শহরগুলির মধ্যে অন্যতম সিউড়ি শহর। প্রয়োজনীয় রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ স্থাপত্যের সমৃদ্ধশালী ইতিহাস। ঘড়িটি সারিয়ে তোলার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছিল বীরভূম নাগরিক কল্যাণ সমিতি। কিন্তু তাতেও কোনো সুরাহা হয়নি। বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের একজন মিস্ত্রি সেই ঘড়িটি ঠিক করতে পারতেন। কিন্তু সেই ব্যক্তির মৃত্যুতে সমস্যা তৈরি হয়। বিভিন্ন নথি থেকে জানা গিয়েছে, আনুমানিক ১৯০২ সালে সিউড়ি শহরে বিশালাকৃতির ঘড়িটি বসানো হয়। যা এখন ট্রেজারি ঘড়ি নামেই পরিচিত। সেইসময় শহরকে নিজের বড় কাঁটা আর গমগম করা ঘণ্টার আওয়াজে সময় জানান দিত ওই ঘড়ি। তারপর নানা ঝড়-ঝঞ্ঝা পেরিয়েছে। দুই বিশ্বযুদ্ধ পার করে, ইংরেজদের দেশ থেকে বিতাড়িত করে স্বাধীন ভারতের বুকেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল সেই ঘড়ি। কিন্তু কালের করাল গ্রাসে সেই ঘড়ি এখন বন্ধ। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে ঘড়ির কাঁটা বন্ধ। আর সেই ঢং ঢং শব্দ শোনা যায় না। সিউড়ির অফিসপাড়ার পরিচিত সেই আওয়াজ এখন নেই। মেরামত না হওয়ায় শতাব্দীপ্রাচীন ঘড়িটি থেমে গিয়েছে। 
শহরের বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত প্রশাসন ঘড়িটি মেরামত করে পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করুক। প্রশাসনিক সূত্রে থেকে জানা গিয়েছে, ২০২২সালের সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ ঘড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন। কিন্তু তারপরও কোনো কাজ হয়নি। 
শহরের ইতিহাস নিয়ে কাজ করা বাসিন্দারা জানান, উনিশ শতকের প্রথম দিকে হেতমপুরের তৎকালীন রাজকুমার মহিমানিরঞ্জন চক্রবর্তী সেইসময় জেলা কালেক্টরকে ওই ঘড়িটি উপহার দিয়েছিলেন। লন্ডন থেকে আনা ওই ঘড়ি ১৯০২-১৯০৪সালের মধ্যে ট্রেজারি বিল্ডিংয়ের উপর স্থাপন করে তৎকালীন জেলা প্রশাসন। বছরের পর বছর সকাল থেকে রাত ওই শতাব্দী প্রাচীন ঘড়ির ঢং ঢং শব্দেই সময় বুঝতে পারত জেলাবাসী। অনেকের দাবি, শহরের অফিসপাড়া হিসাবে চিহ্নিত ওই চত্বর। জেলাশাসক, জেলার পুলিশ সুপার, আদালত সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয় রয়েছে ওই এলাকায়। তাই ওই এলাকাতেই ঘড়িটি বসানো হয়েছিল। শহরের প্রবীণ নাগরিকরা জানান, ঘড়িটি এর আগেও খারাপ হয়েছিল। ১৯৭০সাল নাগাদ ঘড়িটি বজ্রাঘাতে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপর ঘড়িটি পুনরায় চালু করা হয়। কিন্তু  ২০১৬ সাল থেকে ঘড়িটি বন্ধ হয়ে রয়েছে। যা আজও ঠিক করা হয়নি। সিউড়ির নেতাজি বিদ্যাভবন স্কুলের বাংলার শিক্ষক অমিত পাল বলেন, আমরা দ্রুত এই ঘড়িটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। সিউড়ি প্রাচীন শহরগুলির মধ্যে অন্যতম। এই ঘড়ি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনেক স্মৃতি বহন করে রয়েছে। যা আজ সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ঘড়িটি বহু প্রাচীন। এধরনের ঘড়ি সারানোর কারিগর এখন খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ