Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

পুরুলিয়ার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন!

দিগন্ত বিস্তৃত প্রান্তর। হাত ধরাধরি করে রয়েছে ছোট ছোট টিলা আর পাহাড়। মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে নদী।

পুরুলিয়ার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন!
  • ৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিগন্ত বিস্তৃত প্রান্তর। হাত ধরাধরি করে রয়েছে ছোট ছোট টিলা আর পাহাড়। মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে নদী। সূর্যাস্ত হোক বা সূর্যোদয়—ভোরের আলো মাখা বা সাঁঝবেলার সিঁদুররঙা আকাশের দিকে তাকিয়ে আবেশে মন ভরে যায়। প্রকৃতির অপরূপ শোভা যে শরীর ও মনকে এতটা শান্তি দিতে পারে, তা না দেখলে বোঝা যায় না। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। পর্যটক মহলের কাছে অত্যন্ত পরিচিত এক নাম। নদীর খরস্রোতে ভেঙে যেখানে এক অদ্ভূত রূপ নিয়েছে পাহাড়। সুদূর আমেরিকা নয়, বাংলার জেলা পুরুলিয়ায় গেলেও মিলবে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মায়াবী আকর্ষণ। হয়তো তা ততটা বিস্তীর্ণ নয়। তবে যতটুকু আছে, সেটাও অনেক। জায়গাটি হল মার্বেল লেক। আসল নাম তরপানিয়া। তবে মার্বেলের পাহাড়ঘেরা লেক পরিচিতি পেয়েছে মার্বেল লেক নামেই। দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম পাহাড়ি জেলা পুরুলিয়া। সেখানে অযোধ্যা পাহাড় ঘিরে একের পর এক আকর্ষণীয় পর্যটনস্থল। শালের ঘন জঙ্গল আর আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধনে মার্বেল লেক এমনই এক আকর্ষণ। হিলটপ থেকে নীচে তাকালে সাদা এবড়োখেবড়ো টিলার মাঝ দিয়ে চোখ চলে যায় শান্ত, স্নিগ্ধ নীল জলের দিকে। আর সেই লেকের ধারে গিয়ে উপরের দিকে তাকালে দেখা যাবে পাহাড়ের মাথায় শালের বন। বেড়ানোর মরশুমে পর্যটকদের ভিড়ে গোটা এলাকা গমগম করে। তবে সেই কোলাহলও স্থানটির নির্জনতা নষ্ট করতে পারে না। অনেকেই বলেন, পশ্চিম মেদিনীপুরের গনগনিই আসলে বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। কথাটার মধ্যে কোনও ভুল নেই। কারণ গনগনিও একই ধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরপুর। তবে তা বলে মার্বেল লেকও কোনও অংশে কম যায় না। আর বাংলার এই অন্যতম পর্যটনস্থল তৈরি হওয়ার পিছনে রয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। পুরুলিয়া পাম্প স্টোরেজের কাজের জন্য পাহাড় ভাঙতে ভাঙতেই এমন রূপ নিয়েছে। তরপানিয়া লেক ঘেরা ড্যামটিকে অনেকে নীল ড্যাম বা পাতাল ড্যামও বলে থাকেন। অযোধ্যা হিলটপ থেকে বামনি ফলস যাওয়ার পথে তাই দেখেই নেওয়া যায় প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা মার্বেল লেক।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ