যজ্ঞের অঙ্গার দিয়ে দেবীর চোখের কাজল তৈরি হয় অম্বিকানগর রাজবাড়ির পুজোয়
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: কালের স্রোতে পুজোর আগের জৌলুস অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। তবে এখনও আভিজাত্য বজায় রেখেছে খাতড়া মহকুমার অম্বিকানগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। ৪১৫বছর আগে কাঁসাই ও কুমারী নদী ঘেরা ওই জনপদে রাজা খড়্গেশ্বর যে পুজোর সূচনা করেছিলেন, তা এখন রাজবাড়ির গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরো অম্বিকানগর গ্রামের উৎসবে পরিণত হয়েছে। তাই এখন গ্রামের বাসিন্দারাও পুজো আয়োজনে রাজপরিবারকে যথাসাধ্য সাহায্য করেন। প্রতিবছর পুজোর ক’টা দিন রাজবাড়িকে ঘিরে দক্ষিণ বাঁকুড়ার রানিবাঁধের এই প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ আনন্দোৎসবে মেতে ওঠেন।

Advertisement

অম্বিকানগর রাজপরিবারের পূর্বপুরুষরা রাজস্থানের ঢোলপুরের বাসিন্দা ছিলেন। সেখান থেকে তাঁরা এসে প্রথমে খাতড়ার সুপুর এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। সুপুরে থাকাকালীন রাজপরিবারের সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ বাধে। তার জেরে পরিবার দু’ভাগ হয়ে যায়। ১০আনা ও ছ’আনা হিসাবে মোট সম্পত্তি ভাগ হয়। ছ’আনার ভাগীদাররা অম্বিকানগরে এসে রাজ্যপাট শুরু করেন। রাজপরিবারের কুলদেবতা কালাচাঁদ, কুলদেবী অম্বিকা। কথিত আছে, কুলদেবীর নামানুসারে গ্রামের নাম অম্বিকানগর হয়েছে।
বাঁকুড়ার অন্যতম পিকনিক স্পট মুকুটমণিপুর থেকে মাত্র তিন কিমি দূরে অম্বিকানগর গ্রাম রয়েছে। রাজা কালাচাঁদ ধবলদেওর দৌহিত্র গৌরীশংকর নারায়ণদেও এখন রাজপরিবারের পুজোর দেখাশোনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের পুজো ১৬১১সালে শুরু হয়েছিল। ৪১৫বছর ধরে পুজো হয়ে আসছে। আগের মতো এখনও একচালার সাবেকি প্রতিমা পুজো হয়।
রানিবাঁধ থানা এলাকার মধ্যে এই রাজবাড়িতেই প্রথম দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছিল। ষষ্ঠীর দিন দেবীর অধিবাসে কালাচাঁদ জিউর মন্দিরের সামনে যজ্ঞ হয়। ওই যজ্ঞের অঙ্গার দিয়ে মায়ের চোখের কাজল তৈরি হয়। ঠাকুরদালানে যজ্ঞের আগুন সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত দিনরাত জ্বলতে থাকে। নবমীতে ওই যজ্ঞে আহুতি দেওয়া হয়। রীতি অনুযায়ী, পুজোর চারদিন দেবীর ঘটের সামনে নামানো থাকে প্রাচীন ‘দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ’। ওই শঙ্খের জল ঘটে দেওয়া হয়।
গৌরীশংকরবাবু বলেন, রাজপাট থাকার সময় পুজোর জৌলুস ছিল দেখার মতো। তখন পুজোর অনেক আগে থেকেই রাজবাড়িতে উৎসব শুরু হয়ে যেত। নানা জায়গা থেকে লোকজন আসত। এখন আর সেই জাঁকজমক নেই। রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদান পাওয়ায় অনেকটাই সুরাহা হয়। অম্বিকানগর ও আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারাও পুজো চালাতে সাহায্য করেন। বাকিটা আমরা দিয়ে থাকি। রাজবাড়ির পুজোয় এলাকার বাসিন্দাদের জন্য অবারিত দ্বার থাকে।