Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চোপড়ার সাইবার ‘ডাকু’কে পড়ুয়াদের তথ্য সরবরাহ করত সর্ষের মধ্যে ভূত’রা

চোপড়ার সাইবার ‘ডাকু’কে  পড়ুয়াদের তথ্য সরবরাহ করত সর্ষের মধ্যে ভূত’রা
  • ১৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার সাইবার ‘ডাকু’ ইমরান আলি ওরফে সরজু বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। রাজস্থান পুলিশ তার সন্ধান পেতে ২১ হাজার টাকা পুরষ্কারও ঘোষণা করেছিল। অবশেষে ক’দিন আগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সাইবার অপরাধের ওই কিংপিনের টার্গেট থাকত কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন রাজ্য সরকার স্কলারশিপ পোর্টালগুলি। ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপের টাকা হাতানোর জন্য সে রীতিমত গ্যাং তৈরি করেছিল। ‘নাশ্যানাল স্কলারশিপ পোর্টাল’ থেকে সে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়েছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। ২০২১ সাল থেকে তার গ্যাং সক্রিয়। এরাজ্যের পড়ুয়াদেরও ট্যাবের টাকা হাতিয়েছিল চোপড়ার গ্যাং। সেই সময় পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনপুরের পুলিশ চোপড়া থেকে কয়েকজন সাইবার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু ইমরান ছিল অধরাই।

Advertisement

কিভাবে সে টাকা হাতাতো? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইমরানের গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। স্কলারশিপের টাকা দেওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, আধারকার্ড সহ অন্যান নথি দিতে হয়। এই কাজ সাধারণত সরকার নিয়ন্ত্রিত কোনো সংস্থার কর্মীদের দিয়ে করানো হয়। তাদের কেউ কেউ ইমরানের গ্যাংয়ের হয়ে কাজ করে। তারা পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য গ্যাংয়ের সদস্যদের শেয়ার করে। ‘সর্ষের মধ্যে ভূত’রাও তদন্তকারীদের স্ক্যানারে। ওইসব তথ্যকে ব্যবহার করে বিশেষ সফটওয়্যার টেকনোলজির মাধ্যমে পড়ুয়াদের টাকা সাইবার অপরাধীদের ভাড়া নেওয়া অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে যেত। সেই টাকা কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ইমরানের গ্যাংয়ের সদস্যরা তুলে নিত। অ্যাকউন্টের মালিকদের অল্প কিছু টাকা কমিশন হিসাবে দেওয়া হতো। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ইমরানের গ্যাং কয়েক বছর আগে কেরলের পড়ুয়াদের স্কলারশিপের টাকা হাতিয়েছিল। পরে এরাজ্যের কয়েক’শ ছাত্রছাত্রীর ট্যাবের টাকা তারা তুলে নিয়েছিল। রাজস্থানের প্রায় ১২০ জন ছাত্রছাত্রীর স্কলারশিপের টাকা হাতানোর পর সে রাজ্যের পুলিশ তদন্তে নামে। প্রথমে ইমরানের গ্যাংয়ের চারজনকে গ্রেপ্তার হয়। পরে মাস্টারমাইন্ড হিসাবে তাকে গ্রেপ্তার করে। রাজস্থান পুলিশের একটি টিম ১০ দিন ধরে উত্তরপ্রদেশে অপেক্ষা করার পর তাকে জালে তুলেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ইমরানের কাছে থেকে ল্যাপটপ, একাধিক সিমকার্ড সহ বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী উদ্ধার করেছে। তাকে হেফাজতে নিয়ে রাজস্থান পুলিশ জেরা করছে। চোপড়া ছাড়া কিষাণগঞ্জের কয়েকজন তার গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। তারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অপরাধ করে। একটি গ্যাংয়ের কাজ হল ছাত্রছাত্রীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করা। অন্যরা অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেওয়ার কাজ করে। আর ইমরান সহ কয়েকজন পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্ট থেকে নিজেদের ভাড়া নেওয়া অ্যাকাউন্টে টাকা হস্তান্তরের কাজ করে। সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের নজর চোপড়ার দিকে রয়েছে। সেই কারণে ইমরান বিহারে বসে বেশির ভাগ সময় অপারেশন করত বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ