Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গঙ্গার ঘাটচিত্র বোনা ২০ হাজার ‘সোনার সুতো’য়, তাপস-থমাসের মেলবন্ধনে তাক লাগাবে হাতিবাগান সর্বজনীন

গঙ্গার ঘাটচিত্র বোনা ২০ হাজার ‘সোনার সুতো’য়, তাপস-থমাসের মেলবন্ধনে তাক লাগাবে হাতিবাগান সর্বজনীন
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘সোনার সুতো’র বুননে ফুটে উঠবে সাবেক কলকাতা, শহরের ঘাটের চালচিত্র। সোনার জলের প্রলেপমাখা প্রায় ২০ হাজার সুতোর কারিকুরিতে ঢাউস ক্যানভাসে দেখা যাবে গঙ্গার ঘাট, তিলোত্তমার সাবেকিয়ানার প্রতিচ্ছবি। শহরের বুকে এবারের পুজোয় সেই ‘অথঃ ঘাট কথা’ নিয়ে তাক লাগাতে চলেছে হাতিবাগান সর্বজনীন। শুধু চমক নয়, হাতিবাগান অঞ্চলের এই নামীপুজোর হাত ধরে দুর্গাপুজো হতে চলেছে আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বজনীন। মহানগরের দুর্গোৎসব গোটা বিশ্বে জনপ্রিয় হলেও বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণ এই উৎসবে সীমিত। সেই বেড়াজাল এবার ভাঙতে চলেছেন হাতিবাগানের পুজো উদ্যোক্তারা। এখানে ফ্রান্সের শিল্পী থমাস হেনরিয়টের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন থিমশিল্পী তাপস দত্ত। প্রতিমা গড়ছেন পরিমল পাল। দেশি-বিদেশি শিল্পীর যৌথ প্রচেষ্টায় দর্শকদের কাছে ফুটে উঠবে কলকাতার গঙ্গাঘাটের ইতিকথা।

Advertisement

থমাসের হাত ধরে এবার বিদেশ থেকেও শিল্পীরা এসেছেন কলকাতায়। ১৯৮০ সালে ফ্রান্সের বেজাসোঁ শহরে জন্মগ্রহণ করেন এই শিল্পী। বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন ফ্রান্সের মারসেই এবং কিউবার হাভানায়। চাইনিজ কালি এবং ব্রাশের আঁচড়ে তৈরি শিল্পকলায় তাঁর দক্ষতা অপরিসীম। চীনের জিয়ান অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস পুরস্কার পান ২০০৫ সালে। তাঁর শিল্পকর্ম নিউ ইয়র্ক থেকে কলকাতা, বেইরুট থেকে রিও ডি জেনেরিও, জাপান থেকে সাউথ আফ্রিকা সর্বত্রই ছড়িয়ে রয়েছে। বারাণসীর ঘাটে সময় কাটিয়েছেন দীর্ঘদিন। বহু বছর ধরেই এই শহরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। সেই সম্পর্ক ও শৈল্পিক ভাবনা থেকেই এবার হাতিবাগানের থিম ভাবনায় জড়িয়ে পড়েছেন থমাস।
এবার দেবী আরাধনার ৯১ তম বর্ষে হাতিবাগান সর্বজনীন গঙ্গার ঘাট, তার ইতিহাস নিয়ে দর্শনার্থীদের চমক দিতে চাইছে। শিল্পী তাপস দত্তের কথায়, ২৫ ফুট বাই ৭ ফুটের একটি ক্যানভাসে সোনার সুতোর কাজে ফুটে উঠবে উত্তর কলকাতার ঘাট, পুরনো শহরের ছবি। জাপান থেকে সেটি বানিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। থমাসই সেই ব্যবস্থা করেছেন। মণ্ডপের মূল কাঠামো, গঠনশৈলী প্রাণ পাচ্ছে তাপসের হাতে। তবে, ঘাট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছে পুজো কমিটি। 
পুজো কমিটির সম্পাদক শাশ্বত বসু বলেন, হাতিবাগান সর্বজনীনের পথচলা শুরু ১৯৩৫ সালে। ফেলে আসা ৯০ বছরে অলোক সেন থেকে গোরাচাঁদ পাল, সনাতন দিন্দা থেকে সুশান্ত পাল— কালের বিবর্তনে চিন্ময়ী রূপে বদল এসেছে বারবার। বদলেছে মণ্ডপসজ্জাও। গোপাল পোদ্দার, শিবশঙ্কর দাস হয়ে এখন সেই পতাকা তাপস দত্তের হাতে। তাঁর সঙ্গে এবার হাত মিলিয়েছেন থমাস হেনরিয়ট।
মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এই পুজোর থিম উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ। ছিলেন অতীন-কন্যা প্রিয়দর্শিনী ঘোষ বাওয়াও। এদিন উত্তর কলকাতার ঘাটের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে আক্ষেপের সুর অতীনের গলায়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ