নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার থেকে বাংলায় লেখা বিল্ডিং প্ল্যান জমা দিলেও অনুমোদন দেওয়া হবে। অর্থাৎ কোনও এলবিএস (লাইসেন্সড বিল্ডিং সার্ভেয়ার) বা আর্কিটেক্ট চাইলে বাংলায় লেখা বিল্ডিং প্ল্যান জমা করতে পারবেন কলকাতা পুরসভায়। সে কথা জানিয়েছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এই খবর প্রকাশ হতেই সামনে আসছে ইতিহাস। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে খবর, আজ থেকে প্রায় ২৮ বছর আগে প্রথম বাংলায় লেখা বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপর আর কিছুই এগয়নি। প্রায় তিন দশকের মাথায় এসে যখন ধারাবাহিকভাবে এই অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি মেয়র ঘোষণা করছেন, তখন স্মৃতিমেদুর বিজয়গড়ের বাসিন্দা রায়চৌধুরী পরিবার এবং তাঁদের বিল্ডিং প্ল্যানের এলবিএস। কারণ তাঁদের বাড়িটিই বাংলায় লেখা বিল্ডিং প্ল্যানে তৈরি হওয়া শহরের প্রথম বাড়ি।
১/৯৮ এ, বিজয়গড়, এই ঠিকানায় বর্তমানে বসবাস রায়চৌধুরী পরিবারের। অবসরের পর সেখানে জমি কিনে বাড়ি করার পরিকল্পনা করেন রঞ্জিত রায়চৌধুরী। তিনি এলবিএস তপন ঘটকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তপনবাবুর কাছে রঞ্জিতবাবুর দাবি ছিল, বাংলায় বিল্ডিং প্ল্যান তৈরি করতে হবে। তপনবাবুর কথায়, তখন এই বিষয়টি একদম অবাক করেছিল আমাকে। উনি বলেছিলেন, তিনি তামিলনাড়ু ঘুরে দেখেছেন, সেখানে সরকারি লেখাপড়াতে তামিল ভাষার ব্যবহার রয়েছে। তাই রঞ্জিতবাবু জেদ ধরেন, বাড়ির বিল্ডিং প্ল্যান বাংলাতেই করা হোক। তপনবাবু আরও জানান, আমি বলেছিলাম সময় লাগবে। কারণ ইংরেজিতে বিল্ডিং প্ল্যানের যে টেকনিক্যাল বিষয়গুলি লেখা হয়, বাংলায় তার প্রতিশব্দ কী হবে, সেটা খুঁজে বের করতে হবে। আমি ডিকশনারি দেখে সব বাংলা শব্দ বের করেছিলাম। তারপর সাত থেকে আট মাসের মাথায় বিল্ডিং প্ল্যান তৈরি করে পুরসভায় জমা করেছিলাম। তৎকালীন চিফ ইঞ্জিনিয়ার সাহায্য করেছিলেন। সমস্যা হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাংলা ভাষায় লেখা বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন পেল। রঞ্জিতবাবু প্রয়াত। এই বাড়ির বিল্ডিং প্ল্যান তিনি করেছিলেন স্ত্রী মিনু রায়চৌধুরীর নামে। ফোনে মিনুদেবী বলেন, ‘আমার কর্তা তখন এই বাংলায় বিল্ডিং প্ল্যান করার বিষয়ে খুব সিরিয়াস ছিলেন। সেই অনুযায়ী তপন ঘটক সবটা করে দিয়েছেন।’
তাহলে কী সেটাই শুরু এবং সেটাই শেষ? বর্তমানে তপনবাবু আর এলবিএস হিসেবে কাজ করেন না। তাঁর মেয়ে কাজ সামলান। তপনবাবু বলেন, ‘বিজয়গড়ে ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম কাজ করার পর ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডেও সেভাবে একটি বাড়ির অনুমোদন করিয়েছিলাম। সেই সঙ্গে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভাতেও তেমন একটি কাজ হয়েছিল। যখন ওরা শুনেছিল কলকাতা পুরসভা বাংলায় লেখা বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করছে তখন ওরাও অনুমোদন দেয়।’
সেই ১৯৯৭-’৯৮ সাল থেকে এখন ২০২৫। ফের বাংলায় লেখা বিল্ডিং প্ল্যান ধারাবাহিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন মেয়র। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের এক কর্তা বলেন, বহু বছর আগে একটা-দু’টো অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। অনেকেই সেটা জানতেন না। তাছাড়া বিল্ডিং প্ল্যানের ইংরেজি এবং টেকনিক্যাল টার্মগুলি বাংলায় লেখা সত্যি কষ্টকর। তবে এবার আমরা সিস্টেম আপডেট করেছি। আবার যখন এটা শুরু হয়েছে, এবার থেকে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা হবে।