নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: একটি সিনেমার গল্প। তা তৈরির গল্পটা যেন নিজেই একটি সিনেমা। পরিচালকের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি। এক কিশোর তাতে সুরারোপ করেছেন। তৈরি করেছেন আবহসঙ্গীতও। চলছে সেই সিনেমার খুঁটিনাটি নির্মাণ। চুঁচুড়া শহরের এক কোনায় নিজের হাতে তৈরি স্টুডিওতে প্রতিদিন ১২০ মিনিটের সিনেমাটির ডাবিং করছেন উনিশ বছরের অপূর্ব ভট্টাচার্য। সিনেমার পরিচালক বিরাটির পলাশ দাশগুপ্ত। যিনি তরুণ মজুমদারের সঙ্গে কাজ করেছেন। বানিয়েছেন কিছু চর্চিত শর্টফিল্ম। এবার তৈরি করছেন, ‘তালপাতার সেপাই’। পূর্ণদৈর্ঘ্যের সেই সিনেমার সিংহভাগ শুটিং হয়েছে হুগলিতে।
স্বাধীন উদ্যোগে হুগলি ও চুঁচুড়াতে তৈরি সেই সিনেমাতে আছে ভিএফএক্স। সেখানেও থাকছে হুগলি। উত্তরপাড়ার সৌমাভ দাস সেই কাজ করেছেন। শুরুটা হয়েছিল পলাশের ভাবনা আর অপূর্ব’র সুরের যুগলবন্দিতে। সেই ঐক্যতান এখন শরীর পাচ্ছে। পুজো মরশুমে প্রিমিয়ারের পরিকল্পনা। তার আগে চুঁচুড়ার ময়নাডাঙার স্টুডিওতে বসে পলাশ, অপূর্বরা জোরকদমে শেষ রূপটান দিচ্ছেন। এক দুপুরে সেখানে বসে পলাশ বলেন, ‘পাঁচবছরের পরিকল্পনা এবার বাস্তবের পথে। অপূর্ব’র সঙ্গে যোগাযোগ যেন পূর্বনির্দিষ্ট। ওর নিজের হাতে গড়া স্টুডিও আমাকে মুগ্ধ করেছে। সিনেমার সমস্ত প্রয়োজন প্রান্তিক জনপদের একটি স্টুডিও মিটিয়েছে, যা বিস্ময়কর। সঙ্গে পেয়েছি ওর সুর। এক কিশোরের মধ্যে ভাবের যে গভীরতা ও শিল্পবোধ পেয়েছি তার প্রশংসা করতে হবে।’ পাশে বসে লাজুক চোখে মাথা নাড়ছিল অপূর্ব। চুঁচুড়ার ময়নাডাঙার এক কোনে অবস্থিত বাড়ির নীচের অংশকে পুরোদস্তুর স্টুডিও বানিয়ে ফেলার মুখ্য কারিগর তিনি। গান ও বাজনায় পারদর্শী কিশোর নিজেই স্বশিক্ষিত হয়ে স্টুডিও গড়েছেন। সেখানে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের সিনেমার ডাবিংয়ের কাজ চলছে। ফার্মাসিস্ট কোর্সের পড়ুয়া অপূর্ব বলেন, ‘নিজের মতো করে নির্মাণ হলেও পূর্ণদৈর্ঘ্যের সিনেমার আবহ বা ডাবিংয়ের জন্য স্টুডিও ব্যবহারের কথা ভাবিনি। পলাশবাবুর উৎসাহই আমাকে ভরসা দিয়েছে। সবচেয়ে যেটা ভালোলাগার উনি যা চেয়েছেন তার সবই চার দেওয়ালের মধ্যে আনতে পেরেছি।’ ময়নাডাঙার পরিচিত ওষুধের দোকানের মালিক পিন্টু ভট্টাচার্যের ছেলে অপূর্ব। গর্বিত পিতা বেশ বাস্তববাদী। তিনি বলেন, ‘ও নিজেই নিজের পথ খুঁজেছে। সেটাই আনন্দের।’ এক গ্রামের এক নদীর মাঝে হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের তারের পোল। তাতে একদিন উঠে পড়ে এক যুবক। তারপর গল্পের একাধিক বিন্যাসের নকশিকাঁথা হয়ে উঠেছে সিনেমাটি। সেই চলচ্চিত্রের কারিগররাই এখন প্রতিদিন মিলিত হচ্ছেন ময়নাডাঙায়। এক প্রান্তিক জনপদের স্বপ্ন ‘তালপাতার সেপাই’কে ছুঁয়ে চুঁচুড়ার বিবর্ণ কোনায় অবয়ব পাচ্ছে। কবে মুক্তি পাবে ছবি, সকলে রয়েছে তারই অপেক্ষায়। চুঁচুড়ায় স্টুডিওতে চলছে সিনেমার কাজ। -নিজস্ব চিত্র