শ্যামল সেন, হলদিয়া: প্রচারে যে এলাকায় যাচ্ছেন সেখানে ‘পাড়ার ছেলে’ তিলক চক্রবর্তীকে ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাস ও উৎসাহ চোখে পড়ছে। কেউ রজনীগন্ধার মালা নিয়ে এগিয়ে আসছেন, কেউ জল, মিষ্টি, তরমুজ নিয়ে দাঁড়িয়ে পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন। গত পাঁচ বছর বিধায়ক থাকায় এলাকায় তিনি চেনা মুখ। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা তাঁর প্রচারে কোনো খামতি রাখছেন না।
রাতবিরেতে ফোন করলে ‘তিলকদা’ যে ত্রাতার ভূমিকা নেন, সেই গল্প শোনাচ্ছিলেন মঞ্জু শিট। গত এক মাস ধরে মহিষাদল বিধানসভার ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ২১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ভোটের প্রচারে চষে বেড়িয়েছেন। শনিবার মহিষাদল সদরে তেরোপেখিয়ায় নিজের ৪৬ নম্বর বুথে সকাল থেকে বাড়ি বাড়ি ঘোরার সময় সোজা সিঁড়ি বেয়ে উঠে দোতলায় দরজায় টোকা দিলেন তৃণমূল প্রার্থী। তিলকবাবুকে দেখে তাঁর হাত ধরে একগাল হাসি মঞ্জুদির। তিনি বলেন, তিলকদা তো আমাদের পাড়ার ছেলে। বাড়ির পাশের মানুষকে তো সবাই চায়। আমাদের বিপদে আপদে আজ নয়, দীর্ঘদিন ধরেই ওঁর কাছেই ছুটে যাই। ভ্যাপসা গরমে তিলকবাবুর হালকা সবুজ পাঞ্জাবি ভিজে। হাসিমুখে হাত জড়ো করে দুয়ারে দাঁড়াচ্ছেন, বাড়ির কর্তা গিন্নিরা দুপুরের রান্না, কাজ ফেলে এসে বলছেন, ‘আছি তো তোমার পাশে।’ এলাকার মহিলা পলি চক্রবর্তী ছুটে এলেন প্লেটে রসগোল্লা নিয়ে, ভাইকে খাওয়াবেন। বৃদ্ধ নিমাই অধিকারীর হাত ধরে তৃণমূল প্রার্থী জিজ্ঞাসা করলেন, শরীর কেমন দাদা? ঘরোয়া কথোপকথন সেরে পা বাড়ালেন অমৃত চক্রবর্তীর বাড়ির দিকে। নিজের বুথে এদিন ঘণ্টাদেড়েকের ভোটপ্রচারের সময় এমনই ছবি উঠে এল। স্থানীয় বাসিন্দা কলেজের অধ্যাপক পার্থসারথি মাইতি বলেন, তিলকবাবুর প্রচারের সময় মানুষের সঙ্গে যেমন আন্তরিক সম্পর্ক দেখবেন, তেমন প্রচারের ধরনেও কিন্তু খুবই স্মার্ট। মহিষাদলে বাড়ি বাড়ি প্রচারের সময় একটি ট্রলি ডিজে স্পিকার রয়েছে সঙ্গে। ওই স্পিকারে কখনো বিধায়ক তহবিলের কাজের খতিয়ান, মুখ্যমন্ত্রীর নানা স্কিম লোকগানের আঙ্গিকে বাজছে। এদিন তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারের সঙ্গী ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি প্রবীণ শম্ভুনাথ সাহু। বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন তৃণমূল প্রার্থী। সঙ্গে মিনি ডিজেতে বাজছে ‘তিলক দাদা, তিলক দাদা, তোমায় আবার চাই।’ নিজের পাড়ায় ঘুরে এসে কিসমত নাইকুণ্ডির তেরোপেখিয়ার শতাব্দীপ্রাচীন শীতলা মন্দিরের নাটমঞ্চের পাশে ঘরোয়া সভায় তিলকবাবু বলেন, আমাকে সবাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে আশীর্বাদ করেছে আজ। কেউ বলছে, আপনি আমাদের পাড়ার ছেলে, কেউ বলেছে পাড়ার কাকু। সবার উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছি, আপনারা পাড়ার ছেলেকে আবার সুযোগ দিন। উন্নয়ন ও ঐতিহ্য রক্ষার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব। যারা মহিষাদলে বিজেপির রাজনীতি করে, বিজেপি তাদের কাউকে প্রার্থী না করে একজন ঠিকাদারকে প্রার্থী করে তাঁদের অপমান করেছে। মহিষাদল সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারনা নেই। বিজেপি নেতা তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিলকবাবু তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর দলের কথা তিনি ভাবুন। বিজেপির ভালমন্দ তাঁকে ভাবতে হবে না। বিজেপির প্রার্থী সুভাষচন্দ্র পাঁজা একজন সজ্জন মানুষ, কাজের মানুষ। দিল্লির নেতারা তাঁর নাম কেন্দ্রীয়ভাবে বাছাই করেছেন।