Bartaman Logo
৪ অক্টোবর, ২০২৬

সংকটে দেশের খাদ্য, জ্বালানি ও অর্থনীতি, এবার সতর্কবার্তা মোদির প্রধান সচিবের

শুধুই খাদ্য ও জ্বালানি নয়। বিশ্ব পরিস্থিতির আঁচে সংকটের মুখে পড়তে চলেছে অর্থনীতিও। এমনই শঙ্কার বার্তা শোনালেন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব নিজেই।

সংকটে দেশের খাদ্য, জ্বালানি ও অর্থনীতি, এবার সতর্কবার্তা মোদির প্রধান সচিবের
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শুধুই খাদ্য  ও জ্বালানি নয়। বিশ্ব পরিস্থিতির আঁচে সংকটের মুখে পড়তে চলেছে অর্থনীতিও। এমনই শঙ্কার বার্তা শোনালেন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব নিজেই। ভারতকে সবধরনের অস্থিরতার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলছেন তিনি। কয়েকদিন আগেই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে খাদ্য এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

Advertisement

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান বনাম আমেরিকার মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে যুদ্ধ চলছে। এর জেরে কৃষ্ণ সাগর, হরমুজ প্রণালীসহ বিস্তীর্ণ অংশের সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ একপ্রকার স্তব্ধ অথবা অনিশ্চিত। সেই কারণেই সার ও জ্বালানির অভাব ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। খাদ্য সংকটের হাতছানি শিয়রে। বিদেশমন্ত্রীর ওই আশঙ্কা যে মো঩টেই বিচ্ছিন্ন তথা বিক্ষিপ্ত একটি পর্যবেক্ষণ নয়, তার প্রমাণ পাওয়া গেল শনিবার। কৌটিল্য ইকনমিক কনক্লেভ শীর্ষক একটি অর্থনীতি সংক্রান্ত সম্মেলনে যোগ দিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রধান সচিব অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রধানতম চালিকাশক্তি পি কে মিশ্র ঠিক একইসুরে আরও বিপদের বার্তা দিলেন। তিনি বলেছেন, জ্বালানি এবং খাদ্যের সঙ্কটের জন্য প্রস্তুত থাকা‌ই বাস্তব। কিন্তু পাশাপাশি অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একটি ঘোর অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। নিছক পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি একা দায়ী নয়। পি কে মিশ্র মনে করেন, বাণিজ্য সংক্রান্ত যে অস্থিরতা চলছে এবং পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে যে ভারসাম্যহীনতা চলছে, সেইসব কারণে অর্থনীতি নিয়ে আর কোনও সুস্থির নীতি নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। আমরা মনে করি যে, সঠিক নীতি গ্রহণ করলেই বোধ হয় অর্থনীতি ইতিবাচক দিকে অগ্রসর হবে। কিন্তু কোনটা সঠিক নীতি? আজ একটি নীতি গ্রহণ করা হলে, শীঘ্রই সেই পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। তা‌ই ভারতকে তৈরি থাকতে হবে নানাবিধ অনিশ্চিয়তা, অস্থিরতা এবং উদ্বেগজনক ওঠাপড়ার জন্য। পি কে মিশ্র বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন জ্বালানি এবং খা঩দ্যের কথা। বিগত বছরগুলিতে লক্ষ্য করা গিয়েছে মোদি সরকারের প্রশাসনিক কাজের পদ্ধতি ক্রমেই পরিচালিত হয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে।  অর্থাৎ বাজেট প্রস্তুতি থেকে প্রকল্প পরিকল্পনা তৈরি, সব ক্ষেত্রেই চুড়ান্ত সবুজ সংকেত দিয়ে থাকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। এই দপ্তর নিয়ম করে সরকারের তাবৎ মন্ত্রকের পারফরম্যান্স যাচাই করে। সেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর যে ভারতের অর্থনীতি এবং প্রশাসন কীভাবে চলছে, সে বিষয়ে সবথেকে বেশি ওয়াকিবহাল সেটা নিয়ে সংশয় নেই। এখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিবই  বলছেন, অর্থনীতি নিয়ে কোনও নীতি নির্ধারণ করা বর্তমানে খুবই কঠিন। কারণ, কেউ জানে না যে, সামগ্রিক পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী মাঝেমধ্যেই বলে থাকেন, ভারতের সেই শক্তি আছে যে কোনও ধাক্কা থেকে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর। ভারত সেটা পারছেও। শনিবার পি কে মিশ্র কিন্তু বলেছেন, ঘুরে দাঁড়ানো, ধাক্কা খেয়েও অর্থনীতিকে রক্ষা করার কথা শুনতে যতটা সহজ, বাস্তবে কিন্তু সেজন্য‌ বড় মূল্যও দিতে হয়। তিনি বলেছেন,  ভারতকে আত্মনির্ভরতার পথেই হাঁটতে হবে। কিন্তু তার অর্থ এটাও নয় যে, বিশ্বের মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া। সেটাও সম্ভব নয়। এই যে ভারসাম্য রক্ষা করা, এটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি থেকে খনিজ, খাদ্য থেকে পণ্য, সবকিছুর জোগানে টান পড়ছে। অতএব ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ