Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রায়গঞ্জে ভ্যাট ভাঙা নিয়ে কৃষ্ণ কল্যাণী ও সন্দীপ বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে

রসভা নিয়ন্ত্রিত ভ্যাট বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনায় রায়গঞ্জ শহরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে।

রায়গঞ্জে ভ্যাট ভাঙা নিয়ে কৃষ্ণ কল্যাণী ও সন্দীপ বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: পুরসভা নিয়ন্ত্রিত ভ্যাট বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনায় রায়গঞ্জ শহরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে। একদিকে রায়গঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী, অন্যদিকে রাজ্য সরকার মনোনীত রায়গঞ্জ পুর কর্তৃপক্ষ। 

Advertisement

ঘটনাটির সূত্রপাত শনিবার। সরকারি টাকায় নির্মিত পুর নিয়ন্ত্রিত একটি ভ্যাট পুরসভাকে না জানিয়ে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আর এই কাজ দাঁড়িয়ে থেকে তদারকি করেন তৃণমূলের রায়গঞ্জ টাউন সভাপতি শিবশংকর রায়চৌধুরী। যিনি কৃষ্ণ কল্যাণীর অনুগামী বলে পরিচিত। এনিয়ে স্থানীয়স্তরে ক্ষোভ তৈরি হয়। রবিবারও এনিয়ে ফের দু’পক্ষের মধ্যে চাপানউতোর অব্যাহত থাকল। এদিন বিষয়টি বড় আকার নেয় যখন শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রমেন্দ্রপল্লি এলাকায় সেই বিতর্কিত স্থান পরিদর্শনে আসেন বিধায়ক কৃষ্ণ। তিনি কথা বলেন স্থানীয়দের সঙ্গে। তিনি ওই স্থানে একটি শিশু উদ্যান তৈরির ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেন। কৃষ্ণ বলেন, দীর্ঘদিন এখানে স্থানীয়রা বর্জ্য ফেলেছিলেন। তাতে এখানে ময়লার স্তুপ জমে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে গিয়েছিল। এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। সময়মতো সেগুলি পরিষ্কার করা হতো না। তাই স্থানীয়দের দাবি মেনে সকলের সহযোগিতায় ওই ভ্যাটটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। 
রায়গঞ্জের বিধায়ক একইসঙ্গে আশ্বাস দেন, এখানে একটি শিশু উদ্যান করা হবে। এই জমি একজনের ব্যক্তিগত। এখানে ভ্যাট তৈরি করার জন্য জায়গার মালিকের কাছ থেকে পুরসভার নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। ভ্যাটটি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। আর এতেই নতুন করে দ্বন্দ্ব চরমে উঠল। 
বিধায়কের পাল্টা মন্তব্য করতে ছাড়েননি রায়গঞ্জ পুরসভার প্রশাসক সন্দীপ বিশ্বাস। তিনি বিধায়ক ও তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ একটি জায়গায় পুরসভা নিয়ন্ত্রিত সরকারি টাকায় নির্মিত ভ্যাট ভাঙা হল কেন? কার স্বার্থে? কার অনুমতিতে ভাঙা হল? সেই প্রশ্ন তুলেছেন পুরপ্রশাসক। সেই সঙ্গে পুরপ্রশাসক সন্দীপের বক্তব্য, উদ্যান তৈরির ব্যাপারে বিধায়ক আমাদের কিছুই জানাননি। ভ্যাটটি ২০১১ সালে সরকারি টাকায় নির্মাণ করা হয়েছিল স্থানীয় মানুষের কথা মাথায় রেখে। সেখানে পুরসভার নিয়ন্ত্রণে থাকা সরকারের অর্থে নির্মিত ভ্যাট ভাঙা হল কেন? এ ধরনের দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে। মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার কারো নেই। সেটার জন্য আইন, আদালত দেখবে। 
শনিবারের পুলিশে অভিযোগ করা প্রসঙ্গে সন্দীপ এদিন কিছুটা রক্ষণাত্মক বক্তব্য দেন। বলেন, এদিন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে যুবসাথী প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা সেই কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। 
• ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষ্ণ কল্যাণী। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ