


সংবাদদাতা, বহরমপুর: কান্দি বহরমপুর রাজ্য সড়কের উপর খাগড়াঘাট স্টেশনের আগে শিয়ালমারা এলাকার রেলগেট কার্যত মরণফাঁদ হয়ে রয়েছে। রেললাইনের দু’পাশের রাস্তার পাথর উঠে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। খুবই সন্তর্পণে গাড়ির চালকদের রেললাইন পার হতে হয়। চালকের সামান্য অসর্তকতায় যেকোনো সময় বড়োসড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে দু’দিকেই প্রচুর যানজট তৈরি হয়।
এনিয়ে স্কুলশিক্ষক সহ নিত্যযাত্রীরা তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছেন। অতি দ্রুত রেললাইনের দু›দিকের বিপজ্জনক অংশ সংস্কারের জন্য তাঁরা দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি খাগড়াঘাট রেলগেট থেকে গোকর্ণ পর্যন্ত ১৭টি হাম্প রয়েছে। ওই হাম্পগুলিও তাঁর তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কান্দি-বহরমপুর ১১ নম্বর রাজ্য সড়কটি পূর্ত সড়ক দপ্তরের বহরমপুর ডিভিশন-১ এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তবে রেললাইনের বিপজ্জনক অংশটি সংস্কারের দায়িত্ব রেলের। খাগড়াঘাট স্টেশনের এক আধিকারিক জানালেন, বিষয়টি তাঁদেরও নজরে রয়েছে। খুব দ্রুত সংস্কারের কাজে হাত লাগানো হবে। বহরমপুর ডিভিশন-১ এর এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পার্থ মণ্ডল বলেন, দুর্ঘটনার প্রবণতা কমাতে রোড সেফটি কমিটি ঠিক করে কোথায় হাম্প করা হবে। সেইমতো আমাদের কাছে অনুরোধ আসার পরই আমরা গাইডলাইন মেনে হাম্প করা হয়। তবে হাইওয়েতে কোনো হাম্প না থাকায় ভাল।
বহরমপুর-কান্দি রাজ্য সড়কের উপর দিয়েই গিয়েছে কাটায়া-আজিমগঞ্জ শাখা। খাগড়াঘাট স্টেশনের আগে শিয়ালমারা এলাকায় একটি রেলগেট রয়েছে। রেললাইনের দু›পাশের কয়েক মিটার করে রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। পাথর উঠে বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তাতে যেকোনো সময় বিপদ ঘটতে পারে। একজন লরি চালক খুরসিদ আলম বলেন, আপনি দেখলেন তো, বালি বোঝায় লরি পার করতে কতটা করসত করতে হল। প্রচুর ঝুঁকি নিতে হয়।
চারচাকা গাড়িগুলিও ঝুঁকি নিয়েই রেললাইন পারাপার করে। রাজ্য সড়ক দিয়ে প্রচুর যাত্রীবাহী সরকারি ও বেসরকারি বাস চলে। রাতদিন বাডি ও পাথর বোঝাই লরি, ডাম্পার সহ বহু পণ্যবাহী যান চলে। বহু ছাত্রছাত্রী ও স্কুল শিক্ষকরা গাড়িতে এই রাস্তা দিয়েই স্কুলে যাতায়াত করেন।
গোকর্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বেণীমাধব মণ্ডল বলেন, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রেলগেট পার হতে হয়। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রেলগেট আর হাম্পের জন্য স্কুল টাইমের অনেক আগে. ঘর থেকে বেরতে হয়। তাও অনেক দিন সঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছাতে পারি না। অবিলম্বে এই রাস্তা সংস্কারের প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা অর্ণব প্রামাণিক বলেন, প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। রেললাইনের দু’দিকের রাস্তা দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন। -নিজস্ব চিত্র