


রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: বহুদিন আগে ঢেঁড়া পিটিয়ে গ্রামে সরকারি বার্তা পৌঁছে দিতেন পঞ্চায়েত বা প্রশাসনের কর্মীরা। ঢেঁড়ার ডুগডুগ শব্দ কানে পৌঁছনমাত্র আট থেকে আশি বাড়ি ছেড়ে রাস্তার পাশে এসে দাঁড়াতেন। বুধ ও বৃহস্পতিবার ভোটারদের মধ্যে সাড়া জাগাতে সেই কায়দায় প্রচার করলেন শালতোড়ার তৃণমূল প্রার্থী উত্তম বাউরি। দিনভর শালতোড়া ব্লকের দলীয় সভাপতি সন্তোষকুমার মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে কানুড়ি অঞ্চলে উত্তমবাবু দাপিয়ে প্রচার সারেন। তৃণমূল প্রার্থী ঢোল বাজিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার করেন। তীব্র গরমে তৃণমূল প্রার্থীর গলদঘর্ম অবস্থা হয়। তবে ঢোলের বোল তোলার সময় তাঁর চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ লক্ষ্য করা যায়নি।
সন্তোষবাবু বলেন, দলের প্রার্থী এবার শালতোড়া ব্লক থেকে রেকর্ড ভোটে জিতবেন। আমরা বাড়ি বাড়ি প্রচারে গিয়ে তা বুঝতে পারছি।
উত্তমবাবু বলেন, বিজেপি প্রার্থী গতবার ভোটে জেতার পর আর এলাকায় যাননি। ফলে কানুড়ি সহ যেখানেই প্রচারে যাচ্ছি, বিধায়কের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগও শালতোড়াবাসী জানাচ্ছেন। সেইসঙ্গে রাজ্য সরকারের প্রকল্পে উপকৃত হওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করছেন। বিজেপি এবার শালতোড়া থেকে কর্পূরের মতো উবে যাবে।
ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক চন্দনা বাউরি এদিন দলের কর্মীদের নিয়ে পাবরা অঞ্চলে প্রচার সারেন। চন্দনাদেবী বলেন, রাজ্য সরকারের প্রকল্পে তৃণমূলের লোকজন উপকৃত হয়েছে। মোদি সরকার দেশবাসীকে প্রকৃত উন্নয়নের স্বাদ দিয়েছে। রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার হলে সোনার বাংলা গড়ে উঠবে। আমরা আরও বেশি উন্নয়ন করব।
উত্তমবাবুর বাড়ি শালতোড়া ব্লকের সালমা অঞ্চলের বাকুলিয়া গ্রামে। সকালে উঠে স্নান সারার পর তিনি বাড়িতেই পুজোপাঠ করেন। পরে গ্রামের বড়কালী মন্দিরে প্রণাম সেরে তৃণমূল প্রার্থী প্রচারে বের হন। সালমা থেকে তিনি সটান যান কানুড়ি অঞ্চলে। ব্লক তৃণমূল সভাপতির ওই অঞ্চলেই বাড়ি। ফলে শুরু থেকেই সন্তোষবাবু দলের প্রার্থীর সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে প্রচার করেন। ঢাক-ঢোল বাজিয়ে তৃণমূল প্রার্থী ধতলা গ্রামের বাউরি পাড়ায় পৌঁছন। সেখানে দলের কর্মীরা আগে থেকেই ঝান্ডা নিয়ে হাজির ছিলেন। ধতলা গ্রামের ওই বুথে গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এগিয়েছিল। এবার অবশ্য তৃণমূল প্রার্থীকে কাছে পেয়ে বাসিন্দারা ‘পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত দেন। ওই এলাকার বাসিন্দা জবা বাউরি, ময়না বাউরি বলেন, গতবার এলাকার মানুষ একজোট হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু ভোটে জেতার পর বিজেপি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা আটকে দেয়। তারফলে এখনো আমাদের মাটির ঘরে থাকতে হচ্ছে। এবার আর গতবারের পুনরাবৃত্তি হবে না। স্থানীয় বাসিন্দা বাসু বাউরি বলেন, মোদি মুখ ফেরালেও দিদি বাংলার বাড়ি প্রকল্পে টাকা দিয়েছে। রাজ্য সরকারের প্রকল্পে মাথার উপর ছাদ পেয়েছি। ভোটের সময় কীভাবে এটা ভুলব! বুধবার ধতলার পাশাপাশি ওই অঞ্চলের পাটদোহা, গোট, কানুড়ি, বিলাবাইদ, বারকোণা, ছাতাপাথর, রামপুর সহ বিভিন্ন গ্রামে তৃণমূল প্রার্থী চুটিয়ে প্রচার সারেন। বৃহস্পতিবার মেজিয়া ব্লকের বানজোরা অঞ্চলে প্রচারে যান। সেখানে জপমালি সহ অন্যান্য গ্রামে জনসংযোগ করেন। সব জায়গাতেই ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থীকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে উন্মাদনা চোখে পড়েছে।
ঢোল বাজিয়ে নির্বাচনী প্রচারে শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী উত্তম বাউরী। -নিজস্ব চিত্র