


লন্ডন: বণিকের মানদণ্ড দেখা দেখা দিল রাজদণ্ড রূপে। বাংলা তথা ভারতে বণিক থেকে শাসক হয়ে ওঠার যাত্রা। দেশে ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপনের নেপথ্যে ছিল এই দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। একসময়ে ক্ষমতার শিখরে ছিল সংস্থাটি। সময়ের ফেরে আজ ম্লান সেই প্রভাব-প্রতিপত্তি। সালটা ১৮৫৭। মহাবিদ্রোহের সময় ভারতবাসীর আন্দোলনের মুখে পাততাড়ি গোটাতে হয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে। সেই ক্ষত সারিয়ে ২০১০ সালে এক ভারতীয়র হাতেই ফের মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল সংস্থাটি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ১৭০ বছর পর অভিশপ্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। দেউলিয়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ফের বন্ধ হয়ে গেল বিশ্বখ্যাত এই বাণিজ্যিক সংস্থা।
১৬০০ সালে পথ চলা শুরু। নীল, মশলা, চা, রেশমের সামগ্রীর ব্যবসা দিয়েই বাজারে জাঁকিয়ে বসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ধীরে ধীরে ভারতে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে। কিন্তু মহাবিদ্রোহের পর ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয় তারা। ইতিহাস বলছে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনে ভারতে বিশেষ করে বাংলায় করুণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুর্ভিক্ষে প্রাণ যায় বহু মানুষের। এর জেরেই তাদের সরে যেতে হয়। এভাবেই কেটে যায় ১৫২ বছর। ২০১০ সাল। বন্ধ থাকা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি জীবন পায় এক ভারতীয়র হাতেই। সঞ্জীব মেহতা। কোম্পানির স্বত্ত্ব কিনে উচ্চমানের চা ও খাবারের ব্যবসা শুরু করেন তিনি।
লন্ডনের মেফেয়ারে ৯৭ নিউ বন্ড স্ট্রিটে ২০০০ বর্গফুটের বিলাসবহুল স্টোর খোলা হয়। কিন্তু ১৫ বছরের মধ্যেই লাটে উঠল ব্যবসা। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সানডে টাইমস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋণে জর্জরিত হয়েই এই দশা। বেতন না দিতে পারায় কর্মী অসন্তোষও সামনে এসেছে। বর্তমানে কোম্পানির ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে। ফাঁকা পুরো স্টোর। শোনা যাচ্ছে, দালালরা আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জায়গাটি ভাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে ঋণের বোঝা ৬ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। কর বাবদ বাকি ২ কোটি ৩ লক্ষ টাকা। কর্মীদের বেতন বাকি রয়েছে ১ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা। ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। একসময় যার প্রভাব-প্রতিপত্তি, শাসনই ছিল শেষকথা। আজ সে নিঃস্ব। এটাই বোধহয় সময়ের রসিকতা।